Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“প্রয়োজন ফুরোলেই কি আমরা আবর্জনা?” আইনি ফ্রন্টেও চরম অপমানিত প্রবীণ আইনজ্ঞ! এবার কি তবে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথে কল্যাণ?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কাজের সময় কাজী, আর কাজ ফুরোলেই কি তবে পাজি? বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় ডেকে আনার পর এবার কি দলের প্রবীণ কাণ্ডারীদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করার খেলা শুরু হলো? আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের আইনি পেশা এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে যে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা প্রখ্যাত আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তা শুনে থমকে গিয়েছে গোটা রাজ্য রাজনীতি। দলের সংকটের দিনে যিনি ঢাল হয়ে আদালত চত্বর কাঁপাতেন, আজ ক্ষমতা হারানোর পর তাঁকেই নাকি এক কোণায় ছুড়ে ফেলা হয়েছে!

আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের পেশাগত অসম্মানের এক চরম চিত্র তুলে ধরেছেন এই প্রবীণ আইনজ্ঞ। সিগনেচার ফোর্জারি (স্বাক্ষর জালিয়াতি) মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি যা বলেছেন, তা যেকোনো মানুষের চোখ কপালে তোলার জন্য যথেষ্ট।পাবলিক ফোরামে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সোজাসুজি বলেছেন— “পিটিশন ফাইল হচ্ছে আমাকে জানানো হচ্ছে না, বলা হচ্ছে ওপর থেকে নির্দেশ আছে। আমাকে ডাস্টবিনের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।” ৪৫ বছরের আইনি কেরিয়ার যাঁর, নিজের অজান্তেই তাঁর মামলা থেকে যেভাবে আইনজীবী বদলে দেওয়া হয়েছে, তাকেই নিজের অস্তিত্বের ওপর চরম আঘাত বলে মনে করছেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, কল্যাণবাবুর এই ‘ডাস্টবিন’ মন্তব্যটি আসলে এক গভীর যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ। যে মানুষটি দলের আইনি ফ্রন্টকে বছরের পর বছর আগলে রাখলেন, আজ ব্যাকস্টেজ থেকে নির্দেশ দিয়ে তাঁর হাত থেকেই ফাইল কেড়ে নেওয়া হচ্ছে! এর চেয়ে বড় অপমান একজন পেশাদারের কাছে আর কী হতে পারে? কল্যাণবাবু আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বেইজ্জতির নেপথ্যে রয়েছে ‘ওপরের নির্দেশ’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই অদৃশ্য হাতটি আর কারও নয়, বরং দলের সেই নতুন লবির, যারা পুরনো ও প্রবীণ স্তম্ভগুলোকে উপড়ে ফেলে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে।

ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর যখন সবাইকে এক সুতোয় বাঁধার প্রয়োজন ছিল, তখন প্রবীণদের এইভাবে কোণঠাসা করার মাশুল আগামী দিনে আরও মারাত্মক হতে পারে। দলের অন্দরের এই চরম সমন্বয়হীনতা এবং পুরনোদের ব্রাত্য করে রাখার জেদ আজ হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিল।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ প্রমাণ করে দিলেন, অন্যায় বা অপমান তিনি মুখ বুজে সহ্য করার পাত্র নন। নিজেকে ‘আবর্জনা’ বানিয়ে রাখার এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে তিনি আজ খোলাখুলি যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছেন। আইনি ফ্রন্টের এই ফাটল কি এবার রাজনৈতিক মঞ্চেও এক চূড়ান্ত বিচ্ছেদের রূপ নেবে? মমতাদি কি এখনো চুপ করেই থাকবেন? জবাব দেবে সময়। নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।

Exit mobile version