Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রক্তের টান বনাম ৪০ বছরের ঘাম! বিধানসভা ভোটের ভরাডুবির পর কি অনুগতদের ‘ডাস্টবিনে’ ফেলবেন মমতা? বিস্ফোরক আলটিমেটাম কল্যাণের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা চলে গেলেও কি হুঁশ ফেরে না? চার দশক ধরে যারা ঘাম ঝরালেন, তাঁদের অবদান কি তবে আজ নস্যি? আজ ঠিক এই কঠিন প্রশ্নটাই ছুড়ে দিলেন শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ তথা প্রখ্যাত আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়! বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর এতকাল যে পরিবারতন্ত্রের খোঁচা বিরোধীরা দিত, আজ তা খোদ দলের অন্দরের সবচেয়ে বিশ্বস্ত দুর্গ থেকে আছড়ে পড়ল কালীঘাটের আঙিনায়। কোনো আড়াল না রেখেই দায়টা সরাসরি মমতার কোর্টে ঠেলে দিলেন কল্যাণ। অভিষেক যদি ‘দিদির রক্তের ভাইপো’ হন, তবে ৪০ বছর ধরে যৌবন ক্ষয় করা অনুগতরা আজ কোথায় দাঁড়াবেন?

আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যেন বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রবীণ এই সাংসদ। সোজাসুজি নিশানা করলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নির্বাচনে পরাজয় এবং ক্ষমতা হারানোর পর কল্যাণবাবু আজ স্পষ্ট ভাষায় যা বলেছেন, তা রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর সাফ বয়ান— “অভিষেক দিদির রক্তের সম্পর্কের ভাইপো হতে পারে, কিন্তু আমরা ৪০ বছর ধরে মমতাদির সঙ্গে রয়েছি।”

ভাবুন একবার! কী মারাত্মক এক চরম দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত! কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ তাঁর মমতাদিকে এক অভূতপূর্ব ধর্মসঙ্কটের সামনে দাঁড় করিয়ে দিলেন। একদিকে ৪ দশকের বিশ্বস্ত সৈনিকদের লড়াই, আর অন্যদিকে এক ‘ভাইপো’-র কার্যপদ্ধতি— দিদি এখন কোন পথ বাছবেন? কল্যাণ আজ ক্ষোভের সুরে মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর মতো প্রবীণরা দলের প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য হতে পারেন, কিন্তু ক্যামাক স্ট্রিটের কর্পোরেট অফিসের ‘মাইনে করা কর্মচারী’ নন। ৪৫ বছরের আইনি কেরিয়ার যাঁর, তাঁকে না জানিয়ে যেভাবে রাতারাতি আইনজীবী বদলে দেওয়া হলো, তাকেই চরম ‘অপমান’ হিসেবে দেখছেন তিনি।

আইনি মামলা থেকে শুরু করে দলের সিদ্ধান্ত— প্রবীণ সাংসদের তীব্র আক্ষেপ, তাঁকে নাকি স্রেফ একটা ‘ডাস্টবিনের’ মতো ব্যবহার করা হয়েছে! যাকে একসময় দলের মুশকিল আসান মনে করা হতো, আজ ক্ষমতা হারানোর পর তাঁর এই করুণ দশা কেন— প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই ক্ষোভ শুধু কল্যাণের একার নয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর একের পর এক নেতার বিদ্রোহের মাঝেই কল্যাণের এই বিস্ফোরক আলটিমেটাম বুঝিয়ে দিচ্ছে, অন্দরের ফাটল এখন আর জোড়া লাগার অবস্থায় নেই।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ পরিষ্কার ঘোষণা করে দিয়েছেন, তিনি আর অভিষেকের কোনো ব্যক্তিগত আইনি মামলা লড়বেন না। রক্তের টান বড়, নাকি ৪০ বছরের লড়াই বড়— সেই ফয়সালার ভার এখন মমতার বিবেকের ওপর। ক্ষমতা হারানোর পরও ভাইপোকে আড়াল করতে গিয়ে দিদি কি নিজের তৈরি করা পুরনো দুর্গটাকেই পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে ফেলবেন? জবাব দেবে সময়। নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।

Exit mobile version