প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২১ শে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নজিরবিহীন ভাঙন ও কোন্দলের মুখে পড়ল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরাজয় এবং দলের একাধিক শীর্ষ নেতা দল ছাড়ার পর, এবার দলের অন্দরেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন তাঁরই দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল মঞ্চের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ ও মঞ্চ ত্যাগের ঘটনার পর, আজ বুধবার সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত বোমা ফাটালেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য নিয়ে তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
দলের বর্তমান শোচনীয় পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দিদি শুধু অভিষেক-অভিষেক করলে তো মুশকিল। দিদির নিজেকে এবার পরিবর্তন করা দরকার।” এখানেই থামেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি দলনেত্রীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দিদি যদি নিজেকে না বদলান, তাহলে যে দল তিনি নিজে রক্ত জল করে গঠন করেছিলেন, সেই দল এবার পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে যে তীব্র ক্ষোভ ও ক্যামাক স্ট্রিট বনাম কালীঘাটের লড়াই ধিকধিক করে জ্বলছিল, তা এবার একেবারে প্রকাশ্য রাজপথে চলে এলো।
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও আজ নজিরবিহীনভাবে সুর চড়িয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বাড়ি থেকে কালীঘাট, আর কালীঘাট থেকে বাড়ি যাচ্ছেন অভিষেক, এতে দল চলবে না!” তাঁর দাবি, দলের একাংশের ভুল সিদ্ধান্তের জন্যই আজ তৃণমূলের এই দশা। গতকাল একুশের সমাবেশে সাধারণ কর্মীদের ভিড় এবং উন্মাদনা দেখেও দলনেত্রী তাঁকে মঞ্চের ওপর যেভাবে অপমান করেছেন, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, “গতকাল কর্মসূচিতে অত ভিড় দেখেও দিদি ফের আমাকে অপমান করেছেন।” তাঁর সাফ কথা, দিদি যদি মনে করেন শুধুই অভিষেককে নিয়ে থাকবেন, তবে তাঁর মতো পুরনো নেতাদের দল ছেড়ে দেওয়াই শ্রেয়।
গতকাল ২১ শে জুলাইয়ের মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় কল্যাণের দীর্ঘ বক্তব্য নিয়ে প্রকাশ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝপথেই তাঁকে বক্তৃতা থামাতে বলায় ক্ষুব্ধ কল্যাণ ভাষণ শেষ করেই কারও জন্য অপেক্ষা না করে সোজা মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান। আর তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই মমতার একক নেতৃত্ব এবং পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে কল্যাণের এই বিদ্রোহ দলটিকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এ ক্ষমতা হারানোর পর ‘কালীঘাট তৃণমূল’ যেভাবে একের পর এক কোন্দলে জর্জরিত হচ্ছে, তাতে কল্যাণের এই মন্তব্য দলটির কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিতে পারে।
