প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভায় বিধায়কদের সই জাল করার মামলার তদন্তে কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে সিআইডি-র তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। আর এই অভিযানের ‘টাইমিং’ বা সময় নির্বাচন নিয়ে এবার তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন বিরোধী শিবিরের প্রবীণ আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় নেই জেনেই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং হেনস্থা করার জন্য এই সময়টিকে বেছে নিয়েছে সিআইডি।
আজ বিকেলে সিআইডি আধিকারিকরা যখন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের কার্যালয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, তখন সেখানে পৌঁছে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছেন। তিনি শহরে নেই, এই সুযোগটিকেই কাজে লাগালো সিআইডি।” তিনি আরও যোগ করেন, “সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই সই জালিয়াতি মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম কোথাও নেই, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো এফআইআরও হয়নি। কোনো নোটিশ বা আগাম সমন ছাড়া এভাবে একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢুকে যাওয়া আসলে নোংরা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘টাইমিং’ তত্ত্বকে উড়িয়ে দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির স্পষ্ট বক্তব্য, তদন্তকারী সংস্থা বা পুলিশ যখন কোনো অপরাধের সূত্র ধরে তল্লাশিতে যায়, তখন তারা কোনো রাজনৈতিক নেতার সময়সূচী বা ক্যালেন্ডার দেখে যায় না। বিধানসভার মতো পবিত্র জায়গায় বিধায়কদের সই জাল করার মতো নজিরবিহীন অপরাধের তদন্তে সিআইডি সম্পূর্ণ আইন মেনেই সেখানে গিয়েছে। অপরাধের প্রমাণ খোঁজার সাথে কারও দিল্লিতে থাকা বা না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, যেকোনো হাই-প্রোফাইল মামলার ক্ষেত্রে অভিযানের সময় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন কিছু নয়। একদিকে বিরোধী শিবির যখন এটিকে নেত্রীর অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক অপদস্থ করার চেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে পদ্ম শিবির একে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে দাবি করছে।
