প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জোড়াফুল প্রতীক কার দখলে থাকবে তা নিয়ে আজ নির্বাচন কমিশনের হাই-ভোল্টেজ মেগা শুনানির মাঝেই এক চরম বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন তৃণমূলের লোকসভার চিফ হুইপ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে ১ ঘণ্টার ব্যবধানে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ ও ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর প্রতিনিধিদের মুখোমুখি বসিয়েছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আর এই চরম ফয়সালার ঠিক আগেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নজিরবিহীন প্রশ্ন তুলে বাংলার রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিলেন কল্যাণ। তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন, দিল্লির এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী রায় আসতে চলেছে তা আগে থেকেই সম্পূর্ণ স্ক্রিপ্টেড বা নির্ধারিত হয়ে রয়েছে!
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মারাত্মক ও কৌতূহল জাগানো মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে আজ শনিবারের একটি বিশেষ এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ বা রাজনৈতিক ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভেতর তৈরি হওয়া নজিরবিহীন দল ভাঙার পর ‘আসল তৃণমূল’ কারা—তা নিয়ে আজ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (ECI) ফুল বেঞ্চের সামনে চূড়ান্ত শুনানি চলছে। কমিশন আজ কড়া নিয়ম মেনে সকাল ১১টায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ এবং ঠিক দুপুর ১২টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর ৫ জন করে প্রতিনিধির সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠকে বসেছে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন। ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই আবহে একই প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের লড়াই রুখতে কমিশন হয়তো ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকটি ফ্রিজ বা স্থগিত করে দিতে পারে—এমন জল্পনার মাঝেই এই কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন কল্যাণ।
দিল্লি যাওয়ার আগে এবং এই শুনানির আবহেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের চেনা মেজাজে ক্ষোভ উগরে দেন কালীঘাট শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন:”যাচ্ছি কাল, কী হবে সে তো জানি…। বিজেপি যা লিখে দিয়েছে, সেটাই তো হবে। কিন্তু আমাদের যা কাজ করার, তা তো করতে হবে। সবাই জানে কী হবে। আমি আর বলব না। নির্বাচন কমিশন কার, তাও জানি আমরা।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চরম আক্রমণাত্মক বয়ান থেকেই স্পষ্ট যে, বর্তমান বিজেপি সরকারের জমানায় নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ একতরফাভাবে ঋতব্রত শিবিরের সপক্ষে বা জোড়া ফুল প্রতীক ফ্রিজ করার দিকেই হাঁটতে চলেছে বলে আগে থেকেই ধরে নিয়েছে মমতার অনুগত শিবির। তবে রায় যাই হোক না কেন, আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান আইনজীবী। উপনির্বাচনের মনোনয়নের ঠিক মুখে কল্যাণের এই মন্তব্য দিল্লির শুনানির উত্তাপ এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
