প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক মর্মান্তিক ও বিধ্বংসী বিমান দুর্ঘটনা। আজ, ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর পৌনে ১২টা নাগাদ প্রশিক্ষণ চলাকালীন আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে একটি বেসরকারি সংস্থার চার আসনের টুইন-ইঞ্জিন প্রশিক্ষণ বিমান (Training Aircraft)। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ইনস্ট্রাক্টর (প্রশিক্ষক) এবং ট্রেনি (শিক্ষানবিশ) পাইলট—উভয়েরই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও বিমান পরিবহন নিয়ামক সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কানপুরের চকেরি থানার অন্তর্গত নাত্থুপুরওয়া (Natthupurwa) গ্রামে গঙ্গা ব্যারেজের কাছে একটি কৃষিজমিতে।
বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (DGCA) জানিয়েছে, ‘গার্গ অ্যাভিয়েশন লিমিটেড’ (Garg Aviation Ltd.) নামক একটি ফ্লাইং স্কুলের এই দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট ‘টেকনম P2006T’ (Tecnam P2006T) মডেলের বিমানটি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: VT-NBV) সকাল ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ কানপুর সিভিল এয়ারপোর্ট থেকে ওড়ার মাত্র ২০ মিনিট পর বিমানটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধান ক্ষেতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। তীব্র অভিঘাতের কারণে বিমানের খোলসটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে মাটিতে মিশে যায়।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কানপুর পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। বিমানে থাকা দুজনকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তাঁদের প্রাণস্পন্দন থেমে গিয়েছিল। নিহত পাইলটদের পরিচয় প্রকাশ করেছে প্রশাসন। মৃতেরা হলেন—শচীন ভাটিয়া (গুজরাতের বাসিন্দা) এবং অভিষেক পূজারী (কর্ণাটকের বাসিন্দা)। এর মধ্যে প্রশিক্ষক পাইলটের প্রায় ৩,০০০ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কারিগরি ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে বিমানটি মাঝআকাশে নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা খতিয়ে দেখতে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (AAIB – Aircraft Accident Investigation Bureau) এবং DGCA-এর ৩ সদস্যের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
