Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

খোদ বিজেপি নেতারই বিজ্ঞাপন! গেরুয়া আবির মেখে তোলাবাজি করলে সোজা আমাকে ফোন করুন! তোলপাড কসবায়!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া হুঁশিয়ারি এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পরেও দলের নাম ভাঙিয়ে একদল দুষ্কৃতী কসবা এলাকায় তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ চালানোর চেষ্টা করছে। আর এবার এই তোলাবাজদের রুখতে খোদ ময়দানে নামলেন বিজেপির স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা। প্রকাশ্য রাস্তায় লিফলেট বিলি এবং বড় বড় ব্যানার টাঙিয়ে সরাসরি নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রচার শুরু করলেন তিনি। কলকাতা পুরসভার ৯১ এবং ৯২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় এই অভিনব ও নজিরবিহীন ব্যানার দেখে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।তোলাবাজির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন কসবার বিজেপির মণ্ডল সভাপতি কৃষ্ণচন্দ্র দেবনাথ। তাঁর এই প্রচারপত্রকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতায় ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

কসবার ব্যানার এবং লিফলেটে পরিষ্কার ভাষায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট লেখা আছে, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বা দলের কোনও নেতার নাম করে যদি কেউ এলাকায় সিন্ডিকেট করতে আসে, বাড়ি তৈরির সময় নির্মাণসামগ্রী জোর করে সাপ্লাই দিতে চায় বা কোনও প্রকার তোলাবাজি করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে যেন লিফলেটে দেওয়া মোবাইল নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়। এই বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি মণ্ডল সভাপতি কৃষ্ণচন্দ্র দেবনাথ বলেন, “গত ৪ তারিখের ফলাফলের পর (রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর) অনেকেই রাতারাতি গেরুয়া আবির মেখে বিজেপির কর্মী সেজে মাঠে নেমে পড়েছেন। এরা দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি করার চেষ্টা করছে। আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ অত্যন্ত স্পষ্ট—বিজেপিতে কোনও তোলাবাজের জায়গা নেই। তাই আমি নিজে আমার ফোন নম্বর দিয়ে ব্যানার ও লিফলেট বিলি করছি, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি আমাদের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে।”

বিগত জমানার তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতিকে চিরতরে উপড়ে ফেলতে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব বারবার প্রশাসন ও কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দলের নাম ভাঙিয়ে এক টাকাও কাটমানি বা তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। কসবার মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় খোদ বিজেপি মণ্ডলের এই প্রকাশ্য প্রতিরোধ প্রমাণ করছে যে, বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে কতটা মরিয়া। কৃষ্ণচন্দ্র দেবনাথের এই সাহসী পদক্ষেপের পর এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, রাতারাতি দলবদল করে আসা দুষ্কৃতী মহলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

Exit mobile version