প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া বার্তার পর গত বুধবারই তোলাবাজির অভিযোগে বিভিন্ন স্তরের ২২ জন নেতা-কর্মীকে সাসপেন্ড করেছিল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে (BLLRO) কাজ করতে দেওয়ার নামে এক ল-ক্লার্কের (মুহুরি) কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল স্থানীয় বিজেপি নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে। দাবি মতো পুরো টাকা না দেওয়ায় ওই ল-ক্লার্ককে মারধর ও আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে। এই ঘটনায় কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারী সুজন ঘোষ কাটোয়ার পানহাটের আদর্শপল্লির বাসিন্দা এবং পেশায় কাটোয়া BLLRO অফিসের একজন ল-ক্লার্ক বা মুহুরি। থানায় দায়ের করা অভিযোগে সুজনবাবু জানিয়েছেন, গত ২৬ জুন তাঁকে কাটোয়া নগর মণ্ডল বিজেপির কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তাঁকে সাফ জানানো হয়, BLLRO অফিসে মুহুরির কাজ করতে হলে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা তোলা দিতে হবে, অন্যথায় তাঁকে আর কাজ করতে দেওয়া হবে না।সুজন ঘোষের দাবি, ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ে তিনি প্রাথমিক ভাবে ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু বাকি টাকা দিতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বজিৎ অধিকারী, অতনু সাহা ও ধীরাজ দাসের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং কোমর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ও মারধর করে। লিখিত অভিযোগে তিনি আরও দাবি করেছেন, হামলাকারীরা নিজেদের বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচয় দেয় এবং কাটোয়া নগর মণ্ডল সভাপতি সুমন দেবনাথের নির্দেশেই এই টাকা চাওয়া হচ্ছিল।
এই মারাত্মক অভিযোগ সামনে আসতেই তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কাটোয়া নগর মণ্ডল বিজেপির সভাপতি সুমন দেবনাথ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা। থানায় গিয়ে যে কেউ যে কারোর নামে যা কিছু বলতে পারে। আমি সুজন ঘোষ নামের ওই ব্যক্তিকে চিনিই না। গত ৪ মের পর যারা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে, এটি তাদেরই তৈরি করা চক্রান্ত। আমাদের দলীয় কার্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, সেই ফুটেজ দেখলেই সত্যতা পরিষ্কার হয়ে যাবে।” এই মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি পাল্টা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
কাটোয়া থানায় ৫ জন বিজেপি নেতার নামে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর পুলিশ পুরো বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। সত্যতা যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যেখানে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ বা শোকজ করছেন, সেখানে সরকারি দফতরের সামনে ল-ক্লার্কের থেকে এই বিপুল পরিমাণ তোলা দাবির অভিযোগ দলীয় ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে নতুন বিড়ম্বনা তৈরি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
