প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
শান্ত রবীন্দ্রপল্লীর আকাশ-বাতাস তখন হঠাৎই ভারী হয়ে উঠেছিল বুটের শব্দে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক বিজেপি নেতার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল উর্দিধারীরা। কিন্তু এই হানা কি শুধুই রুটিনমাফিক ‘রুট মার্চ’, নাকি এর আড়ালে তৈরি হচ্ছিল অন্য কোনো গোপন ‘চিত্রনাট্য’? বুধবার সকালে সিউড়ি বিধানসভার ১৬৮ নম্বর বুথ সভাপতি উপেন দাসের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের আকস্মিক প্রবেশ ঘিরে এখন রণক্ষেত্র বীরভূমের রাজনীতি।
নির্বাচনের প্রাক্কালে বুথে বুথে রুট মার্চ নতুন কিছু নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। এলাকার হাজারো বাড়ি ছেড়ে কেন বেছে বেছে শুধুমাত্র একজন বিরোধী বুথ সভাপতির অন্দরমহলেই হানা দিল বাহিনী? কোনো আইনি পরোয়ানা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই এই প্রবেশ কি শুধুই সতর্কতা, নাকি এর অন্তরালে লুকিয়ে ছিল বিরোধীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কোনো সুনিপুণ নীল নকশা? অভিযোগ উঠেছে, রুট মার্চের দোহাই দিয়ে আসলে ওই বিজেপি কর্মীকে মানসিক চাপে ফেলা এবং প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়াই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। খবর পৌঁছাতে দেরি হয়নি সিউড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কানে। নিজের কর্মীর বিপদের কথা শুনে মুহূর্তের মধ্যেই অনুগামীদের নিয়ে রবীন্দ্রপল্লীতে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে গিয়ে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। প্রার্থী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন উপস্থিত পুলিশ আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। প্রার্থীর সপাটে প্রশ্ন— “ভোটের আগে কি বেছে বেছে বিরোধীদেরই নিশানায় রাখা হচ্ছে? উর্দির ভয় দেখিয়ে কি ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে?”
বিক্ষোভ চলাকালীন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ঝরে পড়ে চরম ক্ষোভ। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের একাংশ আজ নিরপেক্ষতা হারিয়ে শাসকদলের ‘ক্যাডার’ হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, জওয়ানদের কাজ সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, ভয় দেখানো নয়। অতি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কিছু সদস্যের শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জওয়ানদের কর্তব্যের পাঠ পড়ান, যা শুনে উপস্থিত পুলিশ কর্তাদেরও খানিকটা থমকে যেতে হয়।
তৃণমূল শিবির এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ‘গিমিক’ বলে উড়িয়ে দিলেও, রবীন্দ্রপল্লীর সাধারণ মানুষের চোখেমুখে এখন আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। কেন বারবার বিরোধী কণ্ঠরোধ করতেই এই জাতীয় ‘তদন্ত’ বা ‘রুট মার্চ’-এর আড়ালে ক্ষমতার আস্ফালন দেখানো হচ্ছে? গণতন্ত্রের উৎসবে সুরক্ষার নামে কি আসলে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে?
সিউড়ির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা কি আগামীর কোনো বড় ঝড়ের সংকেত? প্রশাসনের এই অতি-তৎপরতা কি কোনো বিশেষ মহলের নির্দেশে? বীরভূমের রাজনৈতিক অন্দরমহলে এখন একটাই আলোচনা— জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের এই সাহসী রুখে দাঁড়ানো কি সিউড়ির নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দেবে? সময় হয়ত এর উত্তর দেবে, তবে বুধবারের এই ঘটনায় যে শাসক শিবির ও প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
