প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাও এবং হেনস্থার ঘটনায় আজ সুপ্রিম কোর্টের নিশানায় এল রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসন। ঘটনার দিন কেন পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল, সেই প্রশ্ন তুলে আজ রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে (DG) তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রশাসনের এই ভূমিকায় বিচারপতিরা এতটাই ক্ষুব্ধ যে, বিচারবিভাগের ওপর এই আঘাতকে ‘অমার্জনীয় গাফিলতি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সরাসরি রাজ্য সরকারের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, মোথাবাড়ির মতো একটি স্পর্শকাতর এলাকায় ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ চলাকালীন কেন পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল না? গোয়েন্দা দপ্তরের কাছে কি কোনো আগাম খবর ছিল না? আদালত মনে করছে, যেখানে বিচারকদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে, সেখানে প্রশাসনের এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ কোনো সাধারণ ঘটনা হতে পারে না।
এদিনের শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য পুলিশ। সেই কারণেই এই মামলার সমস্ত নথি এবং এখন পর্যন্ত ধৃত ২৪ জনকে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র (NIA) হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনোভাবেই এই হস্তান্তরে বিলম্ব না হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঘটনার দিন পুলিশ কেন সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেনি, তার যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে রাজ্যের দুই শীর্ষ আমলা অর্থাৎ মুখ্য সচিব এবং ডিজি-কে। বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের মনোবল রক্ষা করতে কেন প্রশাসন ব্যর্থ হল, সেই দায় ঝেড়ে ফেলতে পারছে না নবান্ন।
সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থানের পর এখন দেখার, রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে কোনো বড়সড় রদবদল হয় কি না। ট্রাইব্যুনালগুলোতে আগামী দিনে কাজ চালানোর জন্য এখন থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপ নিশ্চিত করার চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছে আদালত। রাজ্য প্রশাসনের এই গাফিলতি নিয়ে এখন সরগরম সারা রাজ্য।
