প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কেরলের ত্রিশূর জেলায় জাতীয় সড়ক ৬৬ (NH-66)-এর ওপর এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল তামিলনাড়ুর ৮ জন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া। গতকাল, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে কেরলের কাইপামঙ্গলমের পানাম্বিক্কুন্নু (Panampikkunnu) এলাকায় এই হাড়হিম করা বিপর্যয়টি ঘটেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা কেরল ও তামিলনাড়ু জুড়ে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই ৮ জন ছাত্রই তামিলনাড়ুর দিন্দিগুলের (Dindigul) পিএসএনএ (PSNA) ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র ছিলেন এবং তাঁদের সবার বয়স ২০ বছর। তামিলনাড়ুর রেজিস্ট্রেশন নম্বরযুক্ত একটি গাড়ি নিয়ে তাঁরা গুরুভায়ুর (Guruvayur) থেকে কোডুঙ্গালুরের (Kodungallur) দিকে যাচ্ছিলেন।
কাইপামঙ্গলম থানা পুলিশের দায়ের করা এফআইআর (FIR) অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে জাতীয় সড়কের এমন একটি অংশে যেখানে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ চলার কারণে ট্রাফিক ডাইভারশন (রাস্তা ঘোরানো) করা ছিল। ওই ডাইভারশন লাইনের ডানদিকে একটি মহারাষ্ট্রের নম্বর প্লেটযুক্ত মালবাহী লরি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বেআইনিভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল। গভীর রাতে পড়ুয়াদের গাড়িটি অত্যন্ত তীব্র গতিতে আসছিল। ডাইভারশনের মুখে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বা ব্যারিকেড খেয়াল না করার কারণে গাড়িটি সরাসরি ওই দাঁড়িয়ে থাকা লরির পেছনে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে পুরো গাড়িটি লরির পেছনের অংশের নিচে ঢুকে সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দমকল বাহিনী এবং কাইপামঙ্গলম থানার পুলিশ যৌথভাবে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় দুমড়ে যাওয়া গাড়ির বডি কেটে ছাত্রদের উদ্ধার করে। ৬ জন ছাত্র ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং বাকি ২ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে সমস্ত মৃতদেহ ত্রিশূর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর লরির চালক ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিয়েছে। কাইপামঙ্গলম থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই পলাতক লরি চালকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী ‘অপরাধমূলক নরহত্যা’ (Culpable Homicide)-র মামলা রুজু করে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে।
