প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা যুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। আর নির্বাচন ঘোষণার পরেই মেদিনীপুরের মাটিতে ফের স্বমহিমায় ধরা দিলেন ‘ভূমিপুত্র’ শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মহিষাদল থানায় দাঁড়িয়ে পুলিশ প্রশাসনের একাংশকে যে ভাষায় তিনি তুলোধোনা করলেন, তাতে রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট মত, আসন্ন ভোটে শাসক দলের ‘সেফ প্যাসেজ’ আটকানোই এখন বিরোধী দলনেতার প্রধান লক্ষ্য। কী ঘটেছিল মহিষাদলে? অভিযোগের তির মহিষাদল থানার ওসির দিকে। বিজেপির দাবি, গেরুয়া শিবিরের একজন ‘অভিমানী’ নেতাকে হোয়াটসঅ্যাপ কল করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন ওই পুলিশ আধিকারিক। এই খবর কানে আসতেই আর স্থির থাকতে পারেননি নন্দীগ্রামের বিধায়ক। সটান পৌঁছে যান থানায়। ডিউটি অফিসারের সামনেই গর্জে উঠে শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, “বেতনটা জনগণের টাকায় পান, তৃণমূলের থেকে নয়।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণের নেপথ্যে একাধিক গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকরা। শুভেন্দু এদিন সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, পুলিশ এখন পেশাদার সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর নির্দেশে বিরোধী দল ভাঙানোর খেলায় মেতেছে। এটা যদি সত্যি হয়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত অশনি সংকেত। আদর্শ আচরণবিধি (MCC) চালু হওয়ার পর পুলিশ আধিকারিকরা কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে দালালি করতে পারেন না। শুভেন্দু এদিন ওসির কল রেকর্ড সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস করার হুঁশিয়ারি দিয়ে কার্যত প্রশাসনকে ‘চেকমেট’ করে দিয়েছেন। শুভেন্দুর আক্রমণাত্মক মেজাজ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূল এখন এতটাই কোণঠাসা যে তাদের পুলিশের সাহায্য নিয়ে বিজেপি ভাঙাতে হচ্ছে।
শুভেন্দু এদিন সাফ জানিয়েছেন, ভয় দেখিয়ে বা কেস দিয়ে বিজেপিকে রোখা যাবে না। থানায় দাঁড়িয়ে তাঁর হুঙ্কার, “আপনারা আই-প্যাকের কথায় চলবেন না, সংবিধান মেনে চলুন।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে পুলিশের ওপর চাপ তৈরি করে আসলে নীচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে চেয়েছেন বিরোধী দলনেতা। অনেকে বলছেন, মহিষাদল থানার এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটা আগামী দিনের মহাযুদ্ধের ট্রেলার। একদিকে শাসক দলের বিরুদ্ধে ‘পুলিশি অতিসক্রিয়তা’-র অভিযোগ, আর অন্যদিকে শুভেন্দুর চোখে চোখ রেখে লড়াই। সব মিলিয়ে মহিষাদল কাণ্ড এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক।
