Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“ক্ষমাই পরম ধর্ম”: অতীতের ‘ভুল’ মুছতে এবার কি মমতার গড়েই অপারেশন শুরু করছেন শিশির অধিকারী?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলার রাজনীতিতে কি এবার এক মহাকাব্যিক ‘ভীষ্মের শপথ’ দেখার অপেক্ষায় জনতা? মেদিনীপুরের শান্তিকুঞ্জ থেকে যে ঝড়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল, গতকাল সংবাদমাধ্যমের সামনে শিশির অধিকারীর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি সেই জল্পনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলো। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের উপান্তে দাঁড়িয়ে প্রবীণ এই জননেতা যে ভাষায় নিজের ‘ভুল’ স্বীকার করলেন, তা একাধারে বিষণ্ণ এবং অন্যদিকে অত্যন্ত রণংদেহি। বিশেষ করে, যখন তাঁর মেজো ছেলে শুভেন্দু অধিকারী এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুর থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন, তখন শিশিরবাবুর এই ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ এক গভীর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গতকাল সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে শিশির অধিকারী বলেন, “আমরা দোষ করেছি, ভুল করেছি। যেটা সর্বত্রই বলছি। এরকম একজনকে মুখ্যমন্ত্রী করে বাংলার সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। আর সর্বনাশ করবেন না, এটাই প্রার্থনা। আর আমাদের ক্ষমা করবেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিশিরবাবুর এই বক্তব্যে দু’টি দিক পরিষ্কার। প্রথমত, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পত্তন ও প্রসারে নিজের এবং তাঁর পরিবারের যে ঐতিহাসিক অবদান ছিল, তাকে আজ তিনি ‘ভুল’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, যে পরিবর্তনের আশায় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছিলেন, সেই জমানায় বাংলার উন্নয়ন স্তব্ধ হয়েছে। আর সেই অতীত সিদ্ধান্তের দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি আজ মানুষের কাছে গলবস্ত্র হয়ে ক্ষমা চাইছেন। প্রবীণ এই নেতার এই ‘ক্ষমা চাওয়া’ আসলে এক প্রকার নৈতিক লড়াইয়ের সূচনা।

শিশির অধিকারীর এই বক্তব্যের টাইমিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপি এবার ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করে। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর শুভেন্দুর এই ভবানীপুর অভিযান বাংলার রাজনীতির সবথেকে বড় হাই-ভোল্টেজ লড়াই।

এই আবহে শিশিরবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ভবানীপুরে প্রচারে যাবেন। তিনি বলেন, “ভবানীপুরেও প্রচারে যাব। যে সর্বনাশ করেছি, তার প্রতিকারের জন্যই আমি লড়ব।” শুভেন্দু যখন ময়দানে সরাসরি লড়াই করছেন, তখন তাঁর বাবার এই ‘ক্ষমা চাওয়ার রাজনীতি’ আসলে এক আবেগপ্রবণ চাল। তিনি ভোটারদের বোঝাতে চাইছেন যে, অতীতে যে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, তা ছিল ভুল, আর আজ তাঁর ছেলেই সেই ভুল শুধরানোর জন্য পদ্ম শিবিরের সৈনিক হয়ে ময়দানে নেমেছেন। ভবানীপুরের অলিতে-গলিতে শিশির অধিকারীর পরিচিতি ও প্রভাব কি তবে এবার পদ্ম শিবিরের পালে হাওয়া দেবে?

বিজেপি শিবিরের মতে, শিশির অধিকারীর মতো একজন অভিভাবক সমতুল্য নেতার এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং লড়াইয়ের অঙ্গীকার দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে দলের ভিত আরও শক্ত করবে। বিশেষ করে ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে প্রবীণ সিংহের এই গর্জন শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে বাধ্য। শিশির অধিকারীর এই ‘ক্ষমা’ কি কোনো নীরব বিপ্লবের পূর্বাভাস? ভবানীপুরের পিচে শুভেন্দু যখন ব্যাট করবেন, তখন অভিজ্ঞ শিশিরবাবুর মগজস্ত্র কি কোনো বড় অঘটন ঘটাবে? বাংলার রাজনীতিতে একসময় যারা পরিবর্তনের কারিগর ছিলেন, আজ তারাই কেন সেই পরিবর্তনকে ‘ভুল’ বলছেন—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে ভবানীপুর থেকে মেদিনীপুরের ঘরে ঘরে। উত্তর দেবে সময়, তবে আপাতত অধিকারী পরিবারের এই ‘প্রায়শ্চিত্তের লড়াই’ সরগরম করে তুলেছে বাংলার রাজনৈতিক আকাশ।

Exit mobile version