প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ সাকেত গোখলে। গত ১৯ এপ্রিল তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ জয়ের ব্যাপারে বিজেপি নেতারা মুখে ‘আত্মবিশ্বাসী’ হওয়ার কথা বললেও, আদতে তাঁরা ‘হতাশ’ এবং ‘ভীত’।
সাকেত গোখলের এই ক্ষোভের মূলে রয়েছে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের শীর্ষ কর্তাদের ওপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে আই-প্যাকের তিনজন ডিরেক্টরকে তলব করেছে ইডি। এর মধ্যে অন্যতম হলেন সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঋষি রাজ সিং, যাঁকে দিল্লির ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ই এপ্রিল আই-প্যাকের অপর এক ডিরেক্টর বিনেশ চন্দেলকে কয়লা পাচার সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপের মামলায় দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি ইডি হেফাজতে রয়েছেন।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আই-প্যাকের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন বা ‘হাওয়ালা’র প্রমাণ মিলেছে। যদিও তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনের ঠিক কিছু দিন আগে এই পদক্ষেপ আসলে বিরোধী রাজনৈতিক কৌশল ভেস্তে দেওয়ার একটি চেষ্টা।
সাংসদ সাকেত গোখলে তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ জয়ের দাবি করলেও আচরণ করছেন একজন হতাশ ব্যক্তির মতো। ভোটের কয়েকদিন আগে আই-প্যাকের তিন ডিরেক্টরকে তলব করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চলছে”। তিনি আরও যোগ করেন, “মোদি-শাহ শীঘ্রই ক্ষমতাচ্যুত হবেন। তবে যাওয়ার আগে তাঁরা আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছেন যে, ক্ষমতার বাইরে থাকলে তাঁদের সঙ্গে কী আচরণ করা উচিত”।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেই রাজ্যসভায় অমিত শাহের সামনে কেন্দ্রীয় সংস্থার ‘অপব্যবহার’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন সাকেত। সেখানে তিনি সিবিআই (CBI) এবং ইডির মামলাগুলির সাজার হারের নিম্নগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাল্টা জবাবে অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, এজেন্সির এই পদক্ষেপগুলি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হচ্ছে এবং তিনি কারও দয়ায় নয়, নির্বাচনে জিতেই এখানে এসেছেন।
ভোটের মুখে আই-প্যাক কর্তাদের তলব এবং তৃণমূল সাংসদের এই ‘হুঁশিয়ারি’ বাংলার নির্বাচনী লড়াইকে আইনি ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিল।
