Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

খোয়াই কাণ্ডে অভিষেক-কুণালের ‘রক্ষাকবচ’ আসলে সাময়িক স্বস্তি, চূড়ান্ত জয় সত্যেরই হবে: তোপ বিজেপি শিবিরের!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ত্রিপুরা হাইকোর্ট থেকে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি মেলায় তৃণমূল শিবিরের ক্ষণিকের স্বস্তি হতে পারে, কিন্তু একে “আইনি মারপ্যাঁচে সময় নষ্ট করার চেষ্টা” বলেই কটাক্ষ করছে বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল। ত্রিপুরার খোয়াই থানায় কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং কোভিড বিধি লঙ্ঘনের মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূলের লোকসভা সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের এই আইনি স্বস্তিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে গেরুয়া শিবির। তাদের স্পষ্ট দাবি, নিম্ন আদালতের সশরীরে হাজিরার নির্দেশ এড়াতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া আসলে আইনি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা মাত্র। আগামী ২১ আগস্ট পরবর্তী শুনানিতে আইনেরই জয় হবে বলে আশাবাদী ত্রিপুরার শাসক দল।

২০২১ সালে করোনা মহামারীর কড়া বিধি নিষেধের তোয়াক্কা না করে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক কর্মসূচী করতে গিয়ে গ্রেফতার হন বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্মী। দলীয় কর্মীদের ছাড়াতে তৎকালীন সময়ে চার্টার্ড ফ্লাইটে ত্রিপুরায় পৌঁছান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ সহ অন্যান্যরা। খোয়াই থানায় ঢুকে পুলিশ অফিসারদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। এই মামলার প্রেক্ষিতেই খোয়াই মহকুমা আদালত আগামী ২২ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, যা রুখতেই তড়িঘড়ি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে আবেদনকারীদের। ”

আদালতের সমন আসতেই আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা শুরু হয়েছিল বলে দাবি করছে পদ্ম শিবির। আইনজীবী শঙ্কর লোধের মাধ্যমে হাইকোর্টে এই সমনকে চ্যালেঞ্জ করা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তরজা তুঙ্গে। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, ত্রিপুরা ও দেশের যেখানেই আইনের শাসন রয়েছে, সেখানে উর্দির সম্মানহানি বা আইন ভাঙার সংস্কৃতি বরদাস্ত করা হয় না। অপরাধের সঠিক তদন্ত এবং বিচার এখানে নিশ্চিত।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অতি সম্প্রতি বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ক্ষমতা হারিয়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব এখন তীব্র সংকটে। রাজনৈতিক জমি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার পর এই নেতারা এখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আদালত থেকে আদালতে কেবল ‘রক্ষাকবচ’ ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছেন। হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই খোয়াই থানার মামলার সমস্ত নথি ও ডায়েরি তলব করেছে। আগামী ২১ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি। বিজেপি শিবিরের দাবি, আদালতে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা গেলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আইনের ক্ষমতা কতটা দৃঢ়।

হাইকোর্টের নির্দেশে ২২ জুন খোয়াই আদালতে সশরীরে হাজিরা দিতে হচ্ছে না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সশরীরে হাজিরা থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও ত্রিপুরার মাটিতে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার আইনি জবাবদিহি থেকে এখনই পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগামী ২১ আগস্ট হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দুই রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

Exit mobile version