Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

অফিসপাড়ার বিখ্যাত ‘খাদ্য-স্বর্গে’ ভয়ঙ্কর কাণ্ড! ডেকার্স লেনে গামলা গামলা খাবার ডাস্টবিনে!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার খাদ্যরসিকদের অন্যতম প্রিয় ঠিকানা এবং ডালহৌসি চত্বরের অফিস বাবুদের দুপুরের ভরসা ডেকার্স লেনে (James Hickey Sarani) এবার বড়সড় ধাক্কা! রাজ্যজুড়ে চলা কড়া খাদ্য সুরক্ষা অভিযানের অংশ হিসেবে আজ, ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুরে এই ঐতিহ্যবাহী ফুড হাবে আচমকা হানা দিল কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতর। হোটেল, চপ-কাটলেটের দোকান থেকে শুরু করে মিষ্টির দোকান ও তাদের গুদামঘরে আধিকারিকরা তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে এলো একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অভিযানে নেমে লেনের একটি নামী মিষ্টির দোকানের গুদামঘরে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে আধিকারিকদের। সেখানে রাখা মাখা সন্দেশে রীতিমতো ফাঙ্গাস বা ছত্রাক ধরে গিয়েছিল। গুণমান অত্যন্ত খারাপ এবং অস্বাস্থ্যকর হওয়ায় তৎক্ষণাৎ গামলা ভর্তি সেই মিষ্টি বাজেয়াপ্ত করে রাস্তার ডাস্টবিনে ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়। শুধু মিষ্টিই নয়, অফিসপাড়ার একাধিক নামী খাবারের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে মিলেছে আরও গুরুতর অনিয়ম। বেশ কিছু দোকানে নকল বা কৃত্রিম ক্ষতিকারক রং মেশানো হলুদের গুঁড়ো ব্যবহার করা হচ্ছিল। লেনের নামী স্টলগুলিতে রান্নার জন্য পুরোনো ও বাসি মসলা ব্যবহারের অভিযোগ মিলেছে। চপ, কাটলেট এবং অন্যান্য ভাজাভুজির দোকানে ব্যবহৃত তেলের মান এবং উপকরণের মধ্যেও ভেজালের আশঙ্কা করছেন আধিকারিকরা।

কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আজ শুধু ডেকার্স লেনই নয়, দুপুর গড়াতেই শহরের জোড়াবাগান এবং লেক মার্কেট এলাকাতেও সমান্তরালভাবে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। যে সমস্ত দোকানে নোংরা পরিবেশ, বাসি খাবার বা অনুমোদনহীন রাসায়নিক রং মিলেছে, তাদের অনেককেই কড়া নোটিস ধরানো হয়েছে এবং বহু খাবার অন স্পট নষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কোনো রকম আপস করা হবে না এবং আগামী দিনেও কলকাতার সমস্ত ছোট-বড় ফুড হাবগুলিতে এই আকস্মিক হানা জারি থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে প্রশাসন। অফিসপাড়ার এই জনপ্রিয় লেনের এমন অস্বাস্থ্যকর রূপ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই বেশ আতঙ্কে নিত্যদিনের অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ খাদ্যরসিকরা।

Exit mobile version