প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দিনবদল কাকে বলে, তা বোধহয় এই মুহূর্তে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন কালীঘাটের ‘সাহেব’। যে ভবানী ভবনে একসময় বিরোধীদের ডেকে পাঠানো হতো, আজ সেখানেই সিআইডি-র জেরার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। আর ঠিক তখনই, তাঁরই পাড়ায়, ফিতে আর নকশা হাতে হাজির কলকাতা পুরসভার টিম! যে কালীঘাটকে একসময় দুর্ভেদ্য ভাবা হতো, আজ সেখানেই আইনি প্রক্রিয়ার লম্বা হাত—এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। একদা যে নামগুলো শুনলে প্রশাসনের একাংশ কেঁচো হয়ে যেত, আজ সেই ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ থেকে শুরু করে খোদ অভিষেকের ঠিকানায় ঝুলছে নোটিসের পর নোটিস। জানা গিয়েছে, কেএমসি অ্যাক্টের ৪০১ ধারায় ইতিপূর্বেই ১৭টি নোটিস পাঠানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁদের পারিবারিক কোম্পানি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে। অভিযোগ অতি মারাত্মক—বেআইনি নির্মাণ। শুধু কি তাই? সম্পত্তি আবাসিক, নাকি রাতারাতি চরিত্র বদলে বাণিজ্যিক করে দেওয়া হয়েছে, সেই কর মূল্যায়নের হিসাব খুঁজতেও এবার কোমর বেঁধে নেমেছে পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট বিভাগ।সাম্রাজ্যে ফিতের টান!
মঙ্গলবার সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনা কালীঘাটের হরিশ মুখার্জি রোড এবং পটুয়াপাড়ায়। অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’ আবাসন ও তার সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায় পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের একটি বড় দল। রাস্তা থেকে কতটা জায়গা ছাড়া হয়েছে, ফুটপাত দখল করে কোনো অংশ তৈরি হয়েছে কি না—ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে দেখছেন আধিকারিকরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, যে ক্ষমতার দম্ভে একসময় আইনের তোয়াক্কা না করে বহুতল গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছিল, আজ সেই ক্ষমতার হাওয়া বেরিয়ে যেতেই ফিতে হাতে নিয়ম শেখাতে এসেছে পুরসভা।
পুরসভার এই নোটিস ঘিরে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও এই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেকের আত্মীয়রা। আদালত পূর্বের নোটিসকে ‘অসম্পূর্ণ’ বলে নতুন করে নির্দিষ্ট নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, পুরসভার এই মাঠপর্যায়ের তৎপরতা দেখে ওয়াকিবহাল মহলের মত—আইন সবার জন্য সমান। শুধু বেআইনি দেওয়াল তোলা নয়, কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য সম্পত্তির ‘চরিত্র বদল’ করারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণে এবার ৪২ টি সম্পত্তির তালিকা বানিয়ে ময়দানে নেমেছে অ্যাসেসমেন্ট বিভাগ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক আবহাওয়া এবং পদ্ম শিবিরের শাসনভার গ্রহণের পর থেকেই সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার জোরে তৈরি হওয়া তাসের ঘরগুলো ভাঙতে শুরু করেছে বলে দাবি বিরোধীদের। এতদিন যারা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন, আজ ফিতে আর নোটিসের গুঁতোয় তাঁদের মুখের চওড়া হাসি উধাও। এবার দেখার, এই মাপজোকের পর আইনি নিয়ম মেনে কী পদক্ষেপ করে পুরসভা।
(এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি টিমের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যোগ করা হবে)।
