প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কদিন আগেই সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কলকাতা পুরসভার (KMC) নোটিস প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ ও মেজাজ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু আইনি বাস্তবতার চাপ বাড়তেই কি এবার রণকৌশল বদল করতে বাধ্য হচ্ছে তাঁর আইনি শিবির? রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, হরিশ মুখার্জি রোড ও কালীঘাট রোড সংলগ্ন একাধিক ঠিকানায় বেআইনি নির্মাণ ও সম্পত্তির চরিত্র বদলের যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তার প্রেক্ষিতে জবাব দেওয়ার জন্য এবার পুর কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত ১০ দিন সময় চেয়ে আবেদন করেছেন অভিষেকের আইনজীবী। বিরোধীদের একাংশের মতে, যে ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে কদিন আগে ক্ষোভপ্রকাশ করা হয়েছিল, আজ সেখানেই আইনি স্ক্রুটিনির মুখে পড়ে এই বাড়তি সময় চাওয়ার কৌশল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি হরিশ মুখার্জি রোডের একাধিক সম্পত্তিতে কলকাতা পুরসভার নোটিস সাঁটানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে কার্যত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, পুরসভা আগে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে দিক ঠিক কোন অংশটি অবৈধ, তারপর তিনি উত্তর দেবেন। একই সঙ্গে এই গোটা প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলেও দাবি করা হয়েছিল তাঁর শিবিরের পক্ষ থেকে।তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, যদি সমস্ত নির্মাণ সম্পূর্ণ আইনি এবং নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে, তবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরসভার নোটিসের উত্তর না দিয়ে কেন এই বাড়তি ১০ দিনের সময় চাওয়া হলো?
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিল্ডিং প্ল্যান এবং সম্পত্তির চরিত্র বদল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই এই সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতায় এবং কলকাতা পুরসভার অভ্যন্তরীণ সূত্র মারফত যে তথ্য সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে, তাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর পরিবার এবং ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে থাকা একাধিক সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে। হরিশ মুখার্জি রোড ও কালীঘাট রোড-সহ দক্ষিণ কলকাতার অতি ভিভিআইপি অঞ্চলের বেশ কয়েকটি সম্পত্তি এখন পুরসভার স্ক্যানারে রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। পুরসভার নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ, মূল নকশার বাইরে গিয়ে পরিকাঠামোগত বদল এবং পুরসভার ডেভলপমেন্ট ফি না দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চরিত্র বদলের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে।
বিরোধী শিবিরের দাবি, সাধারণ মানুষকে সামান্য গাফিলতির জন্য যেখানে পুরসভার কোপে পড়তে হয়, সেখানে প্রভাবশালী তকমা ব্যবহার করে কোনও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।কলকাতা পুরসভার আইন অনুযায়ী, ধারা ৪০০(১) এবং ৪০১-এর অধীনে পাঠানো নোটিসের সন্তোষজনক উত্তর নির্দিষ্ট সময়ে না মিললে, পুর কর্তৃপক্ষ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ এড়াতে এবং নিজেদের আইনি ভিত্তি প্রস্তুত করতেই এই ১০ দিনের অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়ে থাকতে পারে। এখন দেখার, কলকাতা পুরসভার কমিশনার এই আবেদনে সাড়া দেন, নাকি আইনের স্বাভাবিক নিয়মেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
