প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন পুরভোটের আগে কলকাতার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা সম্পূর্ণ বদলে দিতে চূড়ান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। কলকাতা পুরসভার (KMC) ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এবার শুরু হলো দাবি ও আপত্তি সংক্রান্ত গণ-শুনানির পর্ব। আজ, ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাগাতার চলবে।কলকাতা পুরসভার নতুন খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, শহরের বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের সংখ্যা এক ধাক্কায় বেড়ে হচ্ছে ২০৯টি। অর্থাৎ মহানগরে নতুন করে আরও ৬৫টি ওয়ার্ড যুক্ত হতে চলেছে।
ওয়ার্ডের এই বিপুল রদবদল এবং সীমানা পুনর্গঠন নিয়ে শহরবাসীর দাবি, আপত্তি ও ক্ষোভ খতিয়ে দেখতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে ১০ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে কলকাতা পুরসভায় পাঠানো হয়েছে। শুনানির প্রথম দিনেই পুরভবনে ভিড় জমান সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং প্রাক্তন কাউন্সিলররা। ভোটার সংখ্যায় সমতা আনতে ও প্রশাসনিক কাজ সহজ করার লক্ষ্যে এলাকাগুলি পুনর্গঠন করার যে খসড়া প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই মূলত নিজেদের আপত্তি বা পরামর্শ আধিকারিকদের সামনে নথি আকারে পেশ করছেন তাঁরা।
নতুন সীমানা বিন্যাসের জেরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে দক্ষিণ কলকাতা ও ই.এম বাইপাস সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী:কলকাতার বর্তমান ৫৮টি ওয়ার্ডকে সম্পূর্ণ ভেঙে ১২৩টি নতুন ওয়ার্ড গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাকি ৮৬টি ওয়ার্ড সরাসরি পুরোপুরি ভাঙা না হলেও, পুনর্বিন্যাসের কারণে সেগুলির ভৌগোলিক সীমানা, চেনা আয়তন এবং ওয়ার্ড নম্বর পুরোপুরি বদলে যাবে। সাধারণ মানুষের জমা দেওয়া সমস্ত অভিযোগ ও পরামর্শ ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে নথিভুক্ত করার পর, তা খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত ওয়ার্ড বিন্যাসের তালিকা প্রকাশ করা হবে। নবান্নের এই মেগা পদক্ষেপের পর শহরের রাজনৈতিক অলিন্দে আসন্ন পুরভোটের পারদ যে এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
