প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
কয়লা পাচার কাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তের অগ্রগতি কেন হচ্ছে না, এই প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই রয়েছে। এই রাজ্যের বুকে বহু অন্যায়মূলক ঘটনা ঘটে। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তার তদন্ত করলেও, যারা মূল অভিযুক্ত বলে মনে করেন রাজ্যবাসী, তাদের কেন এখনও গ্রেফতার করা হচ্ছে না, এই প্রশ্ন মুখে মুখে রয়েছে। এমনকি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও মাঝেমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এবার আর এই কয়লা পাচার মামলায় ছেড়ে রাখতে চাইছে না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চাইছে তারা। যে ঘটনায় নাম জড়িয়েছে রাজ্যের এক পুলিশ আধিকারিকের। আর এবার তার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে ইডি।
সামনেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন. তৃণমূলের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যেই দাবি করা হয় যে, যখনই নির্বাচন আসে, তখনই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সক্রিয় হয়। কিন্তু বিরোধীদের মধ্যেও এই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের বিভিন্ন নেতারা আড়ালে আবডালে বলাবলি করছেন যে, কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে বহু সুযোগ রয়েছে মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার। কিন্তু এখনও তারা সেই রকম কোনো গঠনমূলক পদক্ষেপ নিতে পারছে না কেন? বাংলার মানুষ দেখতে চায়, যারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তারা জেলে যাক। কেন ইডি আধিকারিকদের এই ঢিলেমি সামনে আসছে, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা চর্চা হয়েছে এই বাংলার রাজনৈতিক মহলে। তবে এবার কয়লা পাচার মামলায় বারাবনি থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মন্ডলকে তলব করলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সূত্রের খবর, এর আগেও এই মনোরঞ্জন মন্ডলকে দুবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তলপ করা হয়েছিল কিন্তু যেভাবেই হোক তিনি সেই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন তবে এবার একেবারে আর কোনো রকম সুযোগ এই পুলিশ আধিকারিককে দিতে রাজি নয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর সেই কারণেই তারা ফের তাকে তলব করেছে। তবে এবারও যদি মনোরঞ্জনবাবু সেই হাজিরা এড়িয়ে যান, তাহলে কি করবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা? যতদূর খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, এবার সেই মনোরঞ্জন মন্ডলের বিরুদ্ধে হাজিরা এড়িয়ে গেলে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন ইডি আধিকারিকরা। সব মিলিয়ে কয়লা পাচার মামলায় এবার হাত খুলে যে ইডি খেলতে শুরু করেছে, তা যত সময় যাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
