প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০১৬ সালের গোটা প্যানেল বাতিল হয়ে যাওয়ার পর এক অভূতপূর্ব ও চরম সংকটের মুখোমুখি পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার শিক্ষাকর্মী। আজ, শুক্রবার দুপুরের চড়া রোদ উপেক্ষা করে পুনর্বহালের দাবিতে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার রাজপথ স্তব্ধ করে দিলেন চাকরিহারা শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীরা। মহামান্য আদালতের নির্দেশে চাকরি যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও, তাঁদের পুনর্বহাল বা ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সদর্থক সমাধান মেলেনি। এই চরম অনিশ্চয়তার অন্ধকার থেকে বাঁচতেই আজ ফের গণ-আন্দোলনের রূপ নিল চাকরিহারাদের বিক্ষোভ।
মিছিলে শামিল হওয়া আন্দোলনকারীদের মূল ক্ষোভ পূর্বতন রাজ্য সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে। আন্দোলনকারীদের একাংশের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর পূর্বতন রাজ্য সরকার আইনি ফাঁকফোকর ও মানবিকতার খাতিরে শিক্ষকদের একাংশকে কোনোমতে বেতন বা অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার ব্যবস্থা করলেও, গ্রুপ-সি (Group-C) এবং গ্রুপ-ডি (Group-D) শিক্ষাকর্মীদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিল। মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষাকর্মীদের বেতন বা তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হয়নি। ফলে পরিবারের অন্নসংস্থান করতে গিয়ে কার্যত পথে বসার উপক্রম হয়েছে এই অশিক্ষক কর্মচারীদের।
আদালতের নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC) নতুন করে পরীক্ষা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলেও যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চনার অবসান ঘটেনি। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা কোনো জালিয়াতি বা দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পাননি, সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে সততার সঙ্গে ডিউটি করছিলেন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির দায় কেন ‘অযোগ্য’ ও ‘যোগ্য’ সবাইকে একসঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে, তা নিয়েই উঠেছে বড় প্রশ্ন। নতুন পরীক্ষা হওয়ার পরেও আইনি জটিলতায় চোখের সামনে কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন না এই চাকরিহারারা।
আজ ধর্মতলার মেগা মিছিল থেকে চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, নিয়োগ দুর্নীতির বলি হওয়া নিরীহ ও সৎ চাকরিপ্রার্থীদের জীবন নিয়ে যেন ছিনিমিনি না খেলা হয়। আইনি জটিলতা কাটিয়ে তাঁদের দ্রুত সসম্মানে কাজে পুনর্বহাল করার জন্য তাঁরা প্রশাসনের কাছে সরাসরি ও দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে ধর্মতলার এই বিক্ষোভ আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের রূপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বঞ্চিতরা।
