প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সময় কিন্তু টিকটিক করে এগোচ্ছে। আজ, সোমবার, ঠিক দুপুরেই শেষ হচ্ছে রাজ্য সরকারের বেঁধে দেওয়া সেই চরম হুশিয়ারির ৭২ ঘণ্টা! সম্প্রতি ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটকের শুরু হয়েছিল, আজ তার যবনিকা পতনের দিন। কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর নির্দিষ্ট ধারাকে হাতিয়ার করে যে কারণ দর্শানোর নোটিস ঝোলানো হয়েছিল, তার জবাব দেওয়ার শেষ সময় আজ। প্রশ্ন একটাই— জবাব কি তৈরি? নাকি স্রেফ অভ্যন্তরীণ সংকট ঢাকতে আইনের অলিন্দে অজুহাত খোঁজা হচ্ছে?বিধাননগরের পুরবোর্ড ইতিমধ্যেই অতীত, সেখানে বসে গেছেন প্রশাসক। কলকাতা কি তবে একই লাইনে দাঁড়িয়ে? এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
যিনি এতদিন দাপটের সঙ্গে তিলোত্তমার নগরপিতার দায়িত্ব সামলালেন, সেই ফিরহাদ হাকিম কেন হঠাৎ ‘পদের মর্যাদা’র দোহাই দিয়ে ইস্তফা দিলেন? ক্ষমতার অলিন্দে কোন অদৃশ্য সমীকরণে তিনি কোণঠাসা হলেন, সেই সত্যিটা কি পুরবাসী কোনোদিন জানতে পারবে? প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবির।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, কাউন্সিলরদের ওপর কি তবে নেতৃত্বের ভরসার অভাব স্পষ্ট হচ্ছে? নাকি পুরবোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ চাপ এতটাই চরমে যে একজন সর্বসম্মত নাম খুঁজতে গিয়েই কালঘাম ছুটছে? বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট অভিযোগ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই অচলাবস্থা।
যদি আজ জবাব না মেলে, আর যদি প্রশাসক বসানোই হয়, তবে কি আমজনতার ভোটে জেতা এই পুরবোর্ডের গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় থাকল? বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই সরব হয়ে বলছে, এই তীব্র প্রশাসনিক সংকটই প্রমাণ করে দিল যে এতদিন কলকাতার পুর প্রশাসনকে সঠিক দিশা দেখানোর মতো দূরদর্শিতার অভাব ছিল।
ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে। আজই স্পষ্ট হয়ে যাবে তিলোত্তমার ভাগ্য। হয় নতুন কোনো নাম, নয়তো সোজা প্রশাসকের রাজত্ব। আমরা নজর রাখছি, আপনিও চোখ রাখুন।
