Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভায় নজিরবিহীন ডামাডোল, সরকারি নির্দেশ অগ্রাহ্য করেই অলিন্দে ‘বিকল্প সভা’ তৃণমূলের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর এবার কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) প্রশাসনিক অলিন্দেও তার সরাসরি প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করল। শুক্রবার পুরসভার পূর্বনির্ধারিত মাসিক অধিবেশন ঘিরে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে অধিবেশন স্থগিত রাখার কথা জানানো হলেও, তা একপ্রকার অগ্রাহ্য করেই পুরভবনের ভেতরে বিকল্প জায়গায় সমবেত হয়ে ‘প্রতীকী সভা’ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শুক্রবার মে মাসের মাসিক সাধারণ অধিবেশন বসার কথা ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় এবং মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে কাউন্সিলররা পুরভবনে উপস্থিত হন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নির্দেশিকা মেনে মূল অধিবেশন কক্ষের দরজা সকাল থেকেই তালাবন্ধ রাখা হয়েছিল। মূল কক্ষে প্রবেশ করতে না পেরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত কাউন্সিলররা। এরপর আইনসভার রীতিনীতিকে একপাশে সরিয়েই, পুরসভার ‘কাউন্সিলর ক্লাব রুমে’ নিজেদের উদ্যোগে চেয়ার-টেবিল টেনে এক বিকল্প সভার আয়োজন করেন তাঁরা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম একে পুরসভার ইতিহাসের একটি ‘কালো দিন’ বলে আখ্যা দেন এবং নতুন রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে দ্বন্দ্বে না গিয়ে নাগরিক পরিষেবায় একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে অন্য একটি তথ্য। দলীয় নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এই বিকল্প সভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৪০ জনেরও বেশি কাউন্সিলর অনুপস্থিত ছিলেন, যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কলকাতা পুরসভার শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে এক ধরণের সমন্বয়হীনতা ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। পুরসভার স্বশাসিত বোর্ডটি এখনও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, রাজ্য প্রশাসন এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের হাতে।প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পুরসভার আইন ও নাগরিক পরিষেবার বাধ্যবাধকতা মেনেই অধিবেশনের আয়োজন করতে চেয়েছিল পুরবোর্ড। কিন্তু অন্যদিকে, রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধীনস্থ পুর-কমিশনার ও সচিবালয় সম্পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়ম এবং পরিবর্তিত সরকারি নির্দেশিকা মেনেই এই অধিবেশন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যার জেরে শীর্ষ আমলা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এই সংঘাত প্রকাশ্যে চলে আসে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিতর্কের মাঝেই পুর সচিবকে সরিয়ে নতুন সচিব নিয়োগের মতো জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হয় পুর প্রশাসনকে।

আজকের এই সামগ্রিক অচলাবস্থাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবিরও। বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী কাউন্সিলরদের মতে, একটি স্বশাসিত সংস্থায় আইনি ও প্রশাসনিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যেভাবে অলিন্দে সভা করার মরিয়া চেষ্টা চালানো হলো, তা আদতে পুরবোর্ডের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোরই বহিঃপ্রকাশ।কলকাতা পুরসভার মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে আইনি রীতিনীতি বনাম রাজনৈতিক দড়িটানাটানির এই নজিরবিহীন দৃশ্য আগামী দিনে কলকাতার জনপরিষেবার ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version