প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল লালবাজার। জিরো এফআইআর (Zero FIR) দায়ের এবং তা সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (CP)। লালবাজারের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, জিরো এফআইআর রুজু হওয়ার পর মামলা হস্তান্তরে সামান্যতম দেরি হলেও সংশ্লিষ্ট থানার ওসি-কে (OC) তার জন্য সরাসরি জবাবদিহি করতে হবে।
নতুন আইনি পরিকাঠামো অনুযায়ী, অপরাধ যেখানেই ঘটুক না কেন, দেশের যেকোনো নাগরিক নিকটবর্তী যেকোনো থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন। এই ক্ষেত্রে থানার নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বর না দিয়ে শুরুতে ‘০’ (Zero) নম্বর দিয়ে মামলা রুজু করা হয়, যা ‘জিরো এফআইআর’ নামে পরিচিত। কিন্তু প্রায়শই অভিযোগ ওঠে, এক্তিয়ারের অজুহাত দিয়ে পুলিশ মামলা নিতে চায় না বা মামলাটি আসল থানায় পাঠাতে দীর্ঘ সময় নষ্ট করে। এই লালফিতের ফাঁশ কাটতেই এবার ওসির ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করল লালবাজার।
নতুন নির্দেশিকায় পুলিশের জন্য যা যা বাধ্যতামূলক করা হলো, জিরো এফআইআর নেওয়ার পর, সেই থানার ওসি-কে ব্যক্তিগতভাবে তদন্তকারী থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং দ্রুত ফাইল হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে। মামলা পাঠানোর সময় ঘটনার বিবরণ, প্রাথমিক তথ্য এবং অভিযোগকারীর কন্ট্যাক্ট নম্বর অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে অন্য থানাকে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তদন্তে একবিন্দু সময় নষ্ট না হয়। পুলিশ ধাপে ধাপে কী পদক্ষেপ করছে, তা অভিযোগকারীকে জানাতে হবে। এমনকি যে থানায় তদন্ত স্থানান্তরিত হচ্ছে, সেই থানার ওসির নম্বরও অভিযোগকারীকে দিয়ে দিতে হবে। বিশেষ করে মহিলাদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের ক্ষেত্রে জিরো এফআইআর-এর যাবতীয় আপডেট তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিসিপি (DCP)-কে রিপোর্ট করতে হবে।
লালবাজারের এই নতুন গাইডলাইনের ফলে থানা স্তরে পুলিশের কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই অপরাধের শিকার হওয়া সাধারণ মানুষ অনেক দ্রুত আইনি বিচার পাবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
