Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সাতসকালে ভিক্টোরিয়ার রাজপথে তুমুল আলোড়ন! পুলিশের নজিরবিহীন অভিযানে শোরগোল কলকাতায়!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শনিবাসরীয় ভোরের আলো ফুটতেই কলকাতার রাজপথে দেখা গেল এক নজিরবিহীন ও টানটান দৃশ্য। উইকএন্ডের সকালে যখন তিলোত্তমার একটা বড় অংশ মাত্র ঘুম থেকে উঠছে, ঠিক তখনই মহানগরের অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বরে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব সাড়া। সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন কায়দায় কোমর বেঁধে ময়দানে নামল কলকাতা পুলিশ। সাধারণ কোনো প্রচার নয়, সাইকেলের এক বিশাল মহাসমুদ্র তৈরি করে শহরবাসীকে চমকে দিল ট্রাফিক বিভাগ। আজ, ৮ অগাস্ট ২০২৬ (শনিবার) সকালে, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের নর্থ গেটের (North Gate) সামনে থেকে এই মেগা সাইকেল র‍্যালির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের একাধিক জওয়ান এই বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর বাহন সাইকেলকে হাতিয়ার করে ট্রাফিক সুরক্ষার বার্তা দেওয়ার এই অভিনব উদ্যোগ প্রথম থেকেই সাধারণ পথচারীদের নজর কেড়ে নিয়েছে।

এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় ইউএসপি (USP) ছিল পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মেলবন্ধন। কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদের পাশাপাশি এই বর্ণাঢ্য সাইকেল মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন শহরের বিভিন্ন নামী সামাজিক, পরিবেশকর্মী ও অরাজনৈতিক সংগঠনের শখানেক সাধারণ সাইকেল আরোহী। ভিক্টোরিয়ার নর্থ গেট থেকে শুরু হয়ে এই সুবিশাল সাইকেল র‍্যালিটি মেয়ো রোড, জওহরলাল নেহেরু রোড সহ সেন্ট্রাল কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত ট্রাফিক ক্রসিং পরিক্রমা করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পরনে এবং সাইকেলের সামনে ঝুলছিল ট্রাফিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও স্লোগান। মূলত মোটরবাইক চালকদের হেলমেট পরা, গতি নিয়ন্ত্রণ করা, যত্রতত্র লেন বদল না করা এবং পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং ও ফুটপাথ ব্যবহার করার মতো মৌলিক কিন্তু অত্যন্ত জরুরি নিয়মগুলি মনে করিয়ে দেওয়াই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, বর্তমান যুগে প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে সড়ক দুর্ঘটনা রুখতে কেবল জরিমানা বা আইনি কড়াকড়ি যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সাইকেলকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “সাইকেল হলো শৃঙ্খলা এবং পরিবেশ বন্ধুত্বের প্রতীক। আমরা বার্তা দিতে চাই যে, রাস্তায় চলাচলের সময় প্রত্যেকে যদি সাইকেল আরোহীদের মতো ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, তবে শহরের সড়ক দুর্ঘটনার গ্রাফ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।” শনিবারের এই মেগা ইভেন্টটি শুধু একটি সরকারি প্রচারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি ভোরের কলকাতায় এক উৎসবের মেজাজ তৈরি করেছিল। কলকাতা পুলিশের এই সৃজনশীল ও জনমুখী পদক্ষেপ সোশ্যাল মিডিয়াতেও ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াতে শুরু করেছে।

Exit mobile version