Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

পকেট থেকে লাগবে না একটা টাকাও! পুজোর মুখে এক হাজারেরও বেশি মানুষের জন্য অবিশ্বাস্য ঘোষণা নবান্নের!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরসুম শুরুর ঠিক আগেই পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের জন্য এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন উপহার দিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। এবার এক টাকাও খরচ না করে সরাসরি গুজরাতের বিশ্বখ্যাত সোমনাথ মন্দির দর্শন করতে পারবেন বাংলার মানুষ। আজ, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) ঠিক বেলা ১২টায়, কলকাতা রেল স্টেশন থেকে ১,১০০ জনেরও বেশি পুণ্যার্থীকে নিয়ে রওনা দিল রাজ্য সরকারের সম্পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত বিশেষ পুণ্যার্থী স্পেশাল ট্রেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই যাত্রার সবুজ পতাকা নেড়ে আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ।

সোমনাথ মন্দিরের ১,০০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যকে স্মরণ করে দেশজুড়ে আয়োজিত ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এর অংশ হিসেবেই রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক (I&CA) দফতরের ব্যবস্থাপনায় এই মেগা তীর্থযাত্রার আয়োজন করেছে নবান্ন। তীর্থযাত্রীদের জন্য নবান্নের এই মেগা স্কিমে পকেট থেকে একটি টাকাও খরচ করতে হবে না পুণ্যার্থীদের। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাছাই করা প্রায় ১,১০০ জন প্রবীণ নাগরিক এই সুযোগ পেয়েছেন। আবেদনকারীদের বাড়ি থেকে গাড়ি করে স্টেশনে পৌঁছানো, ট্রেনের যাতায়াত, গুজরাতে বিলাসবহুল আবাসে থাকা, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সোমনাথ মন্দির দর্শন—১০০ শতাংশ খরচের সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করছে রাজ্য সরকার। প্রবীণ নাগরিকদের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁদের সাথে পরিবারের একজন সদস্যকে (সহযাত্রী হিসেবে) যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

দূরপাল্লার এই পথযাত্রায় বয়স্ক পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ তৎপরতায় ট্রেনের সাথেই পাঠানো হয়েছে একটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম। যার মধ্যে রয়েছেন: ৩ জন অভিজ্ঞ সরকারি চিকিৎসক, ৪ জন পেশাদার স্টাফ নার্স, আপদকালীন চিকিৎসার জন্য প্রায় ৮০ রকমের জরুরি ওষুধ ও লাইফ সাপোর্টিং সামগ্রী, সুরক্ষা ও গাইডেন্সের জন্য ট্রেনের প্রতিটি কামরায় পুণ্যার্থীদের দেখাশোনা করতে প্রতি জেলা থেকে ২-৩ জন করে উচ্চপদস্থ সরকারি প্রশাসনিক আধিকারিককেও সাথে পাঠানো হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’ (উন্নয়ন ও ঐতিহ্য) মন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে এই পুণ্য কাজের সূচনা করেছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো বাংলার সাথে গুজরাতের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ ট্রেনের পুণ্যার্থীরা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গুজরাতে অবস্থান করবেন এবং পুজো দিয়ে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পুনরায় এই ট্রেনেই সশরীরে কলকাতায় ফিরে আসবেন। আজ ট্রেন ছাড়ার সময় কলকাতা স্টেশনে পুণ্যার্থীদের শঙ্খধ্বনি ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

Exit mobile version