প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-হাওড়া, শিয়ালদা কিংবা বিমানবন্দর— তিলোত্তমার একের পর এক লাইফলাইনকে মেট্রোর জালে মুড়ে ফেলার পর এবার লক্ষ্য কলকাতা স্টেশন। রেল মন্ত্রকের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে স্পষ্ট, দিল্লির নরেন্দ্র মোদী সরকার যখন পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা বলে, তখন তা কেবল ফাইলেই আটকে থাকে না, তা বাস্তবের মাটিতে রূপ পায়। রেল মন্ত্রকের তরফে ইতিমধ্যেই কলকাতা স্টেশন থেকে করুণাময়ী পর্যন্ত নতুন মেট্রো রুটের প্রাথমিক সমীক্ষার জন্য সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় অর্থও।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, বছরের পর বছর ধরে যারা বাংলাকে কেবল রাজনীতির আখড়া বানিয়ে রেখেছিল, যাদের দূরদর্শিতার অভাবে রাজ্যের পরিকাঠামো থমকে ছিল, তাদের নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলায় এখন পরিকাঠামোর আসল হাওয়া। কেন্দ্র সরকারের এই গতিশীল ভাবনা যে কীভাবে জনমুখী কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়, এই মেট্রো প্রকল্প তারই জ্বলন্ত উদাহরণ। জমি জটের অজুহাতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে আটকে রাখার চেনা ছক ভাঙতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে রেল।
মেট্রো রেল সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত এই রুটের সিংহভাগ অংশই যাবে বাগজোলা খালের ওপর দিয়ে। অর্থাৎ, সদিচ্ছা ও আধুনিক পরিকল্পনা থাকলে যে আইনি বা জমি সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াই মসৃণভাবে কাজ করা যায়, তা রেল মন্ত্রক ছকে ফেলে দেখিয়ে দিল। কলকাতা স্টেশন থেকে শুরু হয়ে ক্ষুদিরাম বসু রোড, বাগজোলা খাল এবং সল্টলেক ৬ নম্বর আইল্যান্ড হয়ে এই মেট্রো গিয়ে মিশবে করুণাময়ীতে। করুণাময়ীতে ইতিমধ্যেই গ্রিন লাইনের মেট্রো স্টেশন রয়েছে, ফলে এই নতুন রুটটি যুক্ত হওয়া মাত্রই গোটা কলকাতার মেট্রো নেটওয়ার্ক এক সুতোয় বেঁধে যাবে।
দিল্লির দূরদর্শী নেতৃত্ব খুব ভালো করেই বোঝে যে, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতগামী দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে আসা হাজার হাজার যাত্রীকে প্রতিদিন কী পরিমাণ দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। শিয়ালদা বা হাওড়ার ওপর চাপ কমাতে তৈরি হওয়া কলকাতা স্টেশন এতদিন যাতায়াতের সুব্যবস্থার অভাবে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছিল। এবার মোদী সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোকে সরাসরি মেট্রো পৌঁছবে স্টেশনের দোরগোড়ায়।
প্রাথমিক সমীক্ষার জন্য আপাতত ৮ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে রেল বোর্ড। সমীক্ষার রিপোর্ট জমা পড়লেই শুরু হবে চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ। বাংলার বুকে প্রকৃত আধুনিক পরিকাঠামো কাকে বলে, তা প্রতিদিন চাক্ষুষ করছে আমজনতা। স্থবিরতা দূর করে যেভাবে একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প গতি পাচ্ছে, তাতে এ কথা বলাই বাহুল্য— সদিচ্ছা থাকলেই উন্নয়ন সম্ভব।
