Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সাতসকালে কলকাতার বুকে একি কাণ্ড! ‘আন্ডার দ্য টেবিল ডিলিং’ হাতেনাতে ধরে লাইভ ক্যামেরাতেই রণংদেহী রূপ পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রার! তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সাধারণ একটি সকাল যে আচমকা এমন নজিরবিহীন ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির রূপ নেবে, তা হয়তো কলকাতার মানুষ কল্পনাও করতে পারেননি। মঙ্গলবার কাকভোরে কলকাতার বেলেঘাটার বিখ্যাত সুভাষ সরোবর প্রাঙ্গণে হঠাৎ রাজকীয় কায়দায় আচমকা হানা দেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর সেখানে পা রাখতেই সামনে আসে এক বিস্ফোরক চিত্র! চারপাশের চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থা দেখে লাইভ ক্যামেরার সামনেই মেজাজ হারান মন্ত্রী। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে সরাসরি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন— কাজ না হলে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে সরাসরি টেন্ডার বাতিল করে দেবে সরকার।

জানা গেছে, মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই এই সরোবর এলাকা পরিদর্শনে এসে চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কড়া নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কিন্তু এদিন সকালে হঠাৎ সেখানে পৌঁছে তিনি দেখেন, পরিস্থিতির এক বিন্দুও বদল হয়নি। চারিদিকে নোংরা-আবর্জনার পাহাড় জমে রয়েছে। এই দৃশ্য দেখেই চরম ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী। রক্ষণাবেক্ষণকারী এজেন্সিকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যে সংস্থা এই সরোবরের দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে, তারা প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে, অথচ কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না! আমি আসব খবর পেয়ে তড়িঘড়ি শুধু সামনের কিছুটা অংশ লোকদেখানো পরিষ্কার করা হয়েছে মাত্র।”

মন্ত্রীর পরিদর্শনে আরও উঠে এসেছে যে, সরোবরের ভেতরে থাকা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের শৌচাগারগুলির অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। সেখানে কোনো জল বা বিদ্যুতের সংযোগই নেই বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। পার্কের অসংখ্য আলো ভেঙে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। মন্ত্রী এদিন পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে অবিলম্বে পার্কের সমস্ত আলো নতুন করে লাগানোর জন্য দ্রুত খরচের খতিয়ান বা এস্টিমেট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্ত্রীকে হাতের কাছে পেয়ে নিজেদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগড়ে দেন প্রতিদিন সেখানে আসা প্রাতর্ভ্রমণকারীরাও। তাঁরা মন্ত্রীর কাছে সরাসরি অভিযোগ তুলে ধরেন যে, রাতের বেলা সরোবরের মূল গেট রহস্যজনকভাবে খোলা রাখা হচ্ছে। যার জেরে রাতের অন্ধকারে পার্কের ভেতরে রমরমিয়ে বসছে অসামাজিক কাজকর্ম ও নেশার আসর। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার এই বড়সড় গলদের কথা শুনে মন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং গেট বন্ধের নিয়ম কড়া করার নির্দেশ দেন।

পাশাপাশি সরোবর সংলগ্ন বস্তি এলাকার প্রায় ৪ হাজার বাসিন্দার জন্য কোনো সঠিক শৌচাগার না থাকায়, তাঁরা বাধ্য হয়ে সরোবরের জলেই স্নান ও কাপড় কাচছেন, যা দূষণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। মন্ত্রী দ্রুত সেখানে নতুন শৌচাগার নির্মাণের আশ্বাস দেন। তবে এদিন আগের জমানাকে তীব্র আক্রমণ করে অগ্নিমিত্রা পাল সাফ জানান, “গত ১৫ বছর ধরে যারা এই অব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে এসেছে, আগের সরকারের আমলে যাদের ‘আন্ডার দ্য টেবিল ডিলিং’ বা টেবিলের তলা দিয়ে লেনদেন চলত, সেই দিন এবার শেষ। ফাঁকিবাজি দিয়ে সরকারি টাকা নেওয়া আর বরদাস্ত করা হবে না।”

তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে যত্রতত্র নোংরা ফেলা বা থুতু ফেলার বিরুদ্ধে কড়া জরিমানা ও অন-স্পট ফাইন ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে। মন্ত্রীর এই মারমুখী মেজাজ ও কড়া হুঁশিয়ারির পর কলকাতার প্রশাসনিক মহলে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

Exit mobile version