Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কাঠের রথ অতীত! এবার খোদ কলকাতার রাজপথে চলন্ত ‘লোহার রথে’ চেপে বসলেন জগন্নাথ দেব! পাশে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, শোরগোল শহরে!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রথযাত্রা মানেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশালাকার কাঠের রথের চাকা এবং তাতে টান দেওয়ার জন্য অগণিত মানুষের ভিড়। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা! রাজপথে ট্রামের চাকার ঘড়ঘড়ানি আওয়াজের মাঝেই এবার উচ্চারিত হলো ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি। কাঠের ঐতিহ্যবাহী রথ ছেড়ে স্বয়ং জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা সওয়ার হলেন কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন লোহার ট্রামে! রথের পুণ্য তিথিতে শহরবাসীকে চমকে দিয়ে এমনই এক অভিনব ‘ট্রামে রথযাত্রা’র আয়োজন করল ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ‘ট্রামযাত্রা’।

বৃহস্পতিবার সাতসকালে গড়িয়াহাট ট্রাম ডিপো চত্বরে সাধারণ মানুষের ভিড় দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে সেখানে কোনো ট্রাম ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে নাকি মন্দিরের দরজা খুলছে! দু’কামরার একটি বিশেষ ট্রামকে সম্পূর্ণ ভোলবদল করে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল সনাতনী রথের আদলে। ট্রামের ভেতরেই আসন পেতে প্রতিষ্ঠা করা হয় জগন্নাথদেবের বিগ্রহ, চলে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ এবং পুজো-অর্চনা। ট্রামের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয় মহাপ্রভুর লীলার নানা চিত্র।উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গড়িয়াহাট ডিপো থেকে এই চলমান ট্রাম-রথ যাত্রা শুরু করে। এরপর ধর্মতলা (এসপ্ল্যানেড) হয়ে উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন শ্যামবাজার ট্রাম টার্মিনাস পর্যন্ত পৌঁছায় এই বিশেষ যান। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ট্রামের জানলা দিয়ে জগন্নাথদেবের দর্শন পেয়ে হাতজোড় করে প্রণাম জানান। অনেকেই এই নজিরবিহীন দৃশ্য মুঠোফোনে বন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।ট্রাম বাঁচানোর এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার এই মহৎ আন্দোলনে উধাও হয়ে গিয়েছিল সমস্ত রাজনৈতিক রঙ। এই বিশেষ ট্রাম যাত্রায় একাসনে দেখা গেল বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়কে। উপস্থিত ছিলেন বহু বিশিষ্ট ট্রামপ্রেমীও।

দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় ট্রাম পরিষেবা টিকিয়ে রাখার লড়াই চালাচ্ছে পরিবেশবিদ ও ট্রামপ্রেমীদের সংগঠনগুলি। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে শহরের এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে বাঁচানো এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ট্রামকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই রথযাত্রার এই পবিত্র দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। ট্রামপ্রেমীদের কথায়, উৎসবের আবহে পরিবেশবান্ধব যান সংরক্ষণের এই বার্তা সরাসরি মানুষের মনে দাগ কেটেছে। সব মিলিয়ে, কলকাতার রাজপথে ট্রাম-রথের এই সফর চিরকাল মনে রাখবে শহরবাসী।

Exit mobile version