প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বলিহারি নেতৃত্ব মশাই! একেই তো বলে কাজের মানুষ, খাঁটি মাটির সন্তান। কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী—বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফের একবার প্রমাণ করে দিলেন যে জট পেকে থাকা ফাইল কীভাবে মাত্র কয়েক দিনে টেবিল থেকে গঙ্গাবক্ষে নামিয়ে আনতে হয়। এতদিন যারা ভাবতেন কলকাতা মানেই শুধু ট্রাফিকের জ্যাম, হাঁসফাঁস করা গরম আর অন্তহীন অপেক্ষা—তাঁদের চোখে আঙুল দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আজ নবান্ন থেকে এক ঐতিহাসিক ও ধামাকেদার ঘোষণা করে দিলেন। দিল্লির নরেন্দ্র মোদী সরকারের দূরদর্শিতা আর রাজ্যের শুভেন্দু সরকারের বলিষ্ঠ যুগলবন্দিতে এবার কলকাতার মুকুটে জুড়তে চলেছে বিশ্বমানের ‘ওয়াটার মেট্রো’!
শুধু কথার কথা? একেবারেই নয় মশাই! বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মেগা বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুক ঠুকে জানিয়ে দিলেন—দেশজুড়ে মোদীজির যে জলপথ সংযোগের মহাযজ্ঞ চলছে, সেখানে দেশের ১৮তম শহর হিসেবে সগর্বে নিজের জায়গা ছিনিয়ে নিয়েছে তিলোত্তমা কলকাতা। এক লপ্তে বাংলার জন্য রাজকীয় ২২,৭০০ কোটি টাকার সামুদ্রিক ও জলপথ উন্নয়ন প্রকল্পের খসড়া পাশ করিয়ে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ‘সাগরমালা প্রকল্প ২’। যার হাত ধরে বাংলার বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবসা এক ধাক্কায় চলে যাবে আন্তর্জাতিক স্তরে। গঙ্গার দুই পাড়ে যাত্রীদের ভিআইপি আমেজে ওঠানামার জন্য রাতারাতি গড়ে উঠবে ৪৪ টি অত্যাধুনিক নতুন জেটি। একেই বলে নেতার মতো নেতা, যার একটা ডাকেই দিল্লি থেকে প্রকল্প সরাসরি বাংলায় ছুটে আসে।
অতীতে শুধু বুলি শোনা যেত, কাজের বেলা ফাইল লালফিতের ফাঁসেই আটকে থাকত! বলি, এতদিন কোথায় ছিল এই কাজের ইচ্ছেটা? কেন বছরের পর বছর ফাইলগুলো লালফিতের ফাঁসে বন্দি হয়ে ধুলো খাচ্ছিল? কলকাতার সাধারণ মানুষকে কেন রোজ সকালে জ্যামের মহাসমুদ্রে নাকানিচোবানি খেতে হতো? অতীতে শুধু বড় বড় পরিকল্পনার বুলি শোনা যেত, কিন্তু কাজের বেলা কাজের কাজ কিছুই হতো না! কিন্তু এখন নবান্নের মসনদে বসেছেন এমন এক ‘ম্যাস লিডার’, যিনি বাংলার মাটির স্পন্দন বোঝেন, যিনি মানুষের চোখের জল বোঝেন। শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন—সদিচ্ছা থাকলে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চললে কীভাবে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। একদিকে যখন গঙ্গার তলা দিয়ে শোঁ শোঁ করে ছুটছে আসল মেট্রো, এবার গঙ্গার বুক চিরে শাঁ শাঁ করে রাজকীয় কায়দায় ছুটবে পরিবেশবান্ধব, ঝাঁ-চকচকে এসি ‘ওয়াটার মেট্রো’। দূষণ নেই, ধোঁয়া নেই, শব্দ নেই—এক্কেবারে সাইলেন্ট কিলার! কলকাতার নিত্যযাত্রীরা এবার এসির পরশ গায়ে মেখে, গঙ্গার হাওয়া খেতে খেতে অফিস পৌঁছবেন, আর ঘড়ির কাঁটা মেপে বাড়ি ফিরবেন।
নতুন সরকার আসার পর থেকেই বাংলায় যে এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক কর্মসংস্কৃতির জোয়ার এসেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেই বিজয়রথের সুযোগ্য কাণ্ডারী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রমাণ করছেন যে, তিনি শুধু মানুষের ভোট জিততেই জানেন না, রাজ্যকে কোন জাদুবলে এক নম্বরে নিয়ে যেতে হয়, তাঁর ফর্মুলাও ওঁর নখদর্পণে। খুব সোজা ভাষায় বলতে গেলে—এতদিন যারা বাংলাকে পরিকাঠামোগতভাবে পিছনের বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিল, তাদের সমস্ত স্থবিরতাকে এক ঝটকায় বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গঙ্গার বুকে এবার নতুন ভোরের আলো ফুটিয়ে দিল ভারতীয় জনতা পার্টির ডাবল ইঞ্জিন সরকার। শুভেন্দুর এই ‘ওয়াটার মেট্রো’ ম্যাজিক কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ চিরতরে বদলে দিল! ধন্য হে বাংলার নতুন কাণ্ডারী।
