প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না—এই সংকল্প নিয়ে ময়দানে নেমেছেন প্রাক্তন সাংবাদিক তথা তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সন্তু পান। আর তাঁর এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখেই কি রাতের ঘুম উড়েছে শাসক দলের? বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারকেশ্বরের গড়িয়াভাটায় সন্তু পানের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা চালানো হলো, তাতে সেই আশঙ্কাই এখন প্রবল হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। কী ঘটেছিল বৃহস্পতিবার? এদিন সন্ধ্যায় সন্তোষপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গড়িয়াভাটায় একটি সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী। অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীনই অতর্কিতে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী। স্রেফ গায়ের জোরে বিজেপিকে আটকানোর লক্ষ্যে প্রার্থীর প্রচারের গাড়ি এবং কর্মীদের বাইক ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের মারধর করার পাশাপাশি খোদ প্রার্থী সন্তু পানকেও কুরুচিকর ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
বিজেপির স্পষ্ট অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা আশুতোষ সাঁতরা ওরফে মন্টির নেতৃত্বেই এই তান্ডব চালানো হয়েছে। আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এলাকায় সন্তু পানের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন দেখে তৃণমূল বুঝে গিয়েছে যে, ২০২৬ এ তাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। আর সেই ‘হতাশা’ থেকেই এই হামলা। এদিকে ঘটনার পরেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় তারকেশ্বর থানা চত্বর। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে বিজেপি কর্মীরা থানার সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এদিকে বরাবরের মত এবারও দায় ঝেড়ে ফেলেছে তৃণমূল। একে বিজেপির ‘নিজেদের নাটক’ বলে চালানোর চেষ্টা করলেও, এলাকায় জনরোষ কিন্তু অন্য কথা বলছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, বিজেপি শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার করতে এসেছে। হামলা করতে নয়। তারপরেও কেন তারা নিজেরাই নিজেদের প্রচার বাদ দিয়ে এইভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করবে? পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, হামলা করে কি সন্তু পানকে থামানো যাবে? ভাঙচুর হওয়া গাড়ির সামনে দাঁড়িয়েই বিজেপি প্রার্থীর দৃপ্ত ঘোষণা, “ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। এই ভাঙা কাঁচের টুকরোই আগামী দিনে তৃণমূলের বিদায়ঘণ্টা বাজাবে।” সব মিলিয়ে ভোটের আগে তারকেশ্বরের এই ‘অগ্নিগর্ভ’ পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—মার খেয়ে আর পিছু হঠতে নারাজ তারকেশ্বরের বিজেপি কর্মীরা।
