Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ব্রেকিং: ববির ইস্তফার জল্পনার মাঝেই কৃষ্ণার ‘অ্যাকশন’; বিধাননগর পুরসভাতেও কি বড়সড় রদবদল?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে একটা কথা খুব খাটে—”যা রটে, তার কিছু তো বটে!” তবে এখনকার রাজনৈতিক অলিন্দে যা ঘটছে, তাকে রটনা বলবেন নাকি আসন্ন কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, তা সময়ই বলবে। গতকাল থেকেই কলকাতা পুরসভার অলিন্দে একটা খবর ঘিরে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে যে ফিরহাদ ‘ববি’ হাকিম নাকি মেয়র পদ থেকে সরে যেতে পারেন। যদিও ববিবাবু নিজে অফিশিয়ালি ইস্তফা দেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন এবং দাবি করেছেন তিনি পদত্যাগ করেননি, কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আজ, ৪ জুন ২০২৬ তারিখে এক বড়সড় প্রশাসনিক খবর এল পাশের পুরসভা থেকে। আজ দুপুরে বিধাননগর পৌরনিগমের কমিশনারের টেবিলে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র সঁপে দিয়ে এলেন দীর্ঘদিনের দাপুটে মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী।

রাজনীতিতে যখনই কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, নেতারা সাধারণত একটি চেনা বর্ম ব্যবহার করেন—’ব্যক্তিগত কারণ’। কৃষ্ণা দেবীও তাঁর পদত্যাগপত্রে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার সাম্প্রতিক রদবদলের পর যে প্রশাসনিক চাপ তৈরি হচ্ছিল, এই সিদ্ধান্ত তারই ফলশ্রুতি হতে পারে। নিয়ম মেনে পদত্যাগের সেই চিঠির কপি ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের নবনিযুক্ত পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের টেবিলে। একইসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিক এবং কমিশনারের কাছেও এই চিঠির প্রতিলিপি পৌঁছে গেছে। ফলে বিধাননগর পুরসভার রাশ এখন কার হাতে যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতুহল।

গতকাল কলকাতা পুরসভার অন্দরে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, আজ কৃষ্ণার এই পদক্ষেপের পর তা যেন আরও গতি পেল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, জাহাজ ডুবতে শুরু করলে আরোহীরা যেভাবে সুরক্ষার খোঁজ করেন, এই একের পর পর ইস্তফার ইঙ্গিতও ঠিক তেমনই এক পরিস্থিতির দিকে ইশারা করছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিরোধীরা বারবার পুরসভাগুলোর কাজকর্ম এবং অতীতে ঘটা নানা অনিয়মের দিকে আঙুল তুলছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পর যেভাবে প্রশাসনিক স্তরে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে, তাতে বিদায়ী মেয়রের এই নিঃশব্দ প্রস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূর্যোদয় হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে যে নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরু হয়েছে, তার সামনে পুরোনো শাসন ব্যবস্থার চেনা দুর্গগুলোয় যে টানাপোড়েন শুরু হবে—তা বলাই বাহুল্য। এতদিন ধরে যে পুরসভাগুলোকে নিয়ে বিরোধী শিবির একের পর এক অভিযোগ তুলে আসছিল, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেখানে পুরোনো মেয়রেরা আর স্বস্তিতে নেই, তা আজ কৃষ্ণা চক্রবর্তীর এই আকস্মিক পদত্যাগই স্পষ্ট করে দিল। কলকাতার জল্পনার পর বিধাননগরের এই বাস্তব ইস্তফা—আগামী দিনে রাজ্যের পুর-প্রশাসনে আর কী কী রদবদল নিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version