প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহারণের আগেই বড়সড় বিপত্তি শাসক শিবিরে। নদিয়া জেলার হাইভোল্টেজ কেন্দ্র কৃষ্ণনগর উত্তরে কার্যত মুখ পুড়ল তৃণমূল কংগ্রেসের। কমিশনের কড়া স্ক্রুটিনিতে বাতিল হয়ে গেল ঘাসফুল শিবিরের ঘোষিত প্রার্থী অভিনব ভট্টাচার্যের মনোনয়ন পত্র। আইনি মারপ্যাঁচে ভোটের ময়দান থেকে লড়াইয়ের আগেই ছিটকে গেলেন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছে? নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৯-এ (Section 9A) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিনববাবুর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কোনো লাভজনক চুক্তি বা কন্ট্রাক্টের সঙ্গে যুক্ত থাকলে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে লড়তে পারেন না। স্ক্রুটিনির সময় দেখা যায়, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ও অভিনব ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারের কিছু চুক্তিবদ্ধ কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এই ‘স্বার্থের সংঘাত’-এর জেরেই কড়া পদক্ষেপ নিল কমিশন।
এই ঘটনা সামনে আসতেই সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের দাবি, তৃণমূল প্রার্থীরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না বলেই আজ এই দশা। সরকারি সুবিধা ভোগ করা লোকেদের প্রার্থী করে মানুষের ভোট লুট করতে চেয়েছিল শাসক দল, কিন্তু কমিশনের তৎপরতায় সেই ছক বানচাল হয়ে গেল।
অভিনব ভট্টাচার্যের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় রীতিমত অস্বস্তিতে তৃণমূল। তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমনাথ দত্তকে এই আসনে নতুন প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে তারা। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সংবাদ সম্মেলনে এই পরিবর্তনের কথা মেনে নিলেও, দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়া নিয়ে জেলা রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ভোটের আগেই কি ব্যাকফুটে চলে গেল শাসক দল? কৃষ্ণনগর উত্তরের এই টালমাটাল পরিস্থিতি কি বিজেপির জয়ের পথ আরও সহজ করে দিল? এখন নজর সেদিকেই।
