প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনৈতিক জমি হারানোর চরম হতাশা এবার প্রকাশ্যে চলে এলো তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। গতকাল কালীঘাটে পিসির বাসভবনে আয়োজিত সাংগঠনিক বৈঠকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং উত্তর কলকাতার নবনিযুক্ত সভাপতি কুণাল ঘোষের মধ্যে বেঁধে গেল তীব্র নজিরবিহীন বাদানুবাদ। বৈঠক ঘরের সেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের আওয়াজ যখন বাইরে পৌঁছায়, তখন কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায় যে প্রাক্তন শাসকদলের অন্দরের ফাটল এখন কতটা চওড়া।
বৈঠক সূত্রে খবর, ভাইপো অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের কুকীর্তি এবং তার বিরুদ্ধে চলা পুলিশি তদন্ত নিয়েই এই ঝগড়ার সূত্রপাত। সুমিতের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে কুণাল ঘোষ মুখ খোলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, সুমিতের বিরুদ্ধে বলা মানে আসলে তাঁর নিজের বিরুদ্ধেই মন্তব্য করা।পাল্টা জবাবে কুণাল ঘোষও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুমিত রায় দলের কেউ নন, তাই তাঁকে রক্ষা বা সমর্থন করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। শুধু তাই নয়, সাংগঠনিক রদবদলে অভিষেকের গড়িমসি দেখে ক্ষিপ্ত কুণাল সটান তোপ দেগে বলেন, “লেবু কচলে তেতো কোরো না”।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে শেষ পর্যন্ত আসরে নামতে হয় স্বয়ং পিসি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেত্রী এখন দলের অন্দরেই কতটা অসহায়, তা প্রমাণিত হলো যখন তাঁকে নিজে এগিয়ে এসে দুজনকে শান্ত করতে হলো। বর্তমান রাজনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাদের মাথা ঠান্ডা রাখার কড়া নির্দেশ দিলেও দলের ভেতরের অসন্তোষ চাপা দেওয়া যায়নি।
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রাক্তন শাসকদলের একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে তদন্তের গতি বেড়েছে। এই ঘটনার পর পদ্ম শিবিরের পক্ষ থেকে তীব্র কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, ক্ষমতার লোভ এবং দুর্নীতির তদন্তের ভয়ে এখন প্রাক্তন শাসকদলের নেতারা নিজেদের মধ্যেই কামড়াকামড়ি শুরু করেছেন। মোদী-মোদী স্লোগানে বাংলায় যখন নতুন যুগের সূচনা হয়েছে, তখন একদিকে ক্ষমতার মোহ আর অন্যদিকে তদন্তের ভয়—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে প্রাক্তন শাসকদলের এই কুৎসিত কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে এই দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এবার স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
