Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আর সহ্য করলেন না! পরপর দু’দিন হামলার পর সোজা কমিশনে গিয়ে এমন কী করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে এবার চরম সংঘাতের রূপ নিল বেলেঘাটার ঘটনা। পরপর দু’দিন প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়ে আর ঘরে বসে থাকলেন না মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) অত্যন্ত সোচ্চার নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। আইনের শেষ সীমা পর্যন্ত লড়াইয়ের ডাক দিয়ে তিনি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সরাসরি হাজির হলেন রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের (WBHRC) সদর দফতরে। কমিশনের কাছ থেকে যে নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ এসেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

তৃণমূল বিধায়কের লিখিত বয়ান ও অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে তাঁর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরপর দু’দিন এই মেগা হামলা চালানো হয়। হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইপ্রোফাইল সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে প্রথমবার উত্তরপাড়ায় কুণাল ঘোষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল উন্মত্ত জনতা। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে দেদার ইট-পাথর ও ডিম ছোঁড়া হয়।এই ঘটনার ঠিক পরদিনই নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেলেঘাটার ফুলবাগান ও নারকেলডাঙ্গা মেন রোড এলাকায় তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে প্রায় ১৫-২০ জন সশস্ত্র বাইক-আরোহী দুষ্কৃতী। প্রকাশ্য রাস্তায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গাড়ির উইন্ডশিল্ড ও কাচ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়। শুধু তাই নয়, চলন্ত গাড়ির কলার ধরে বিধায়ককে টেনে বের করার চেষ্টা চালানো হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সরাসরি খুনের হুমকি দেওয়া হয়। কোনোমতে প্রাণ বাঁচাতে তিনি নারকেলডাঙ্গা থানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

বিগত জমানার মতো এবার আর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা মেনে না নিয়ে সরাসরি আইনি যুদ্ধ শুরু করেছেন কুণাল ঘোষ। মানবাধিকার কমিশন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি জানান:
“আমার ওপর পরপর হামলার প্রেক্ষিতে আজ রাজ্য মানবাধিকার কমিশনে গিয়ে কড়া অভিযোগ জানালাম। আমার সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, এবং শুনানির সময় সেখানে স্বয়ং কমিশনে নিযুক্ত পুলিশের আইজিও উপস্থিত ছিলেন। কমিশন পরিস্থিতির চরম গুরুত্ব বিবেচনা করে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে এই মামলা নথিভুক্ত করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।”

কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আই পি মুখোপাধ্যায় বিধায়কের জীবনের ঝুঁকি এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গভীরতা বিচার করে তৎক্ষণাৎ নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
আদালতের মতো কড়া অবস্থান নিয়ে মানবাধিকার কমিশন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার) এই স্পর্শকাতর মামলার জরুরি শুনানির দিন ধার্য করেছে। উত্তরপাড়া এবং বেলেঘাটা—এই দুটি পৃথক হামলার ঘটনায় পুলিশের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে কলকাতা এবং চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের ওই দিন সশরীরে হাজির থাকার (Summon) চরম নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

Exit mobile version