প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পর পর দু’দিন গাড়িতে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হামলার জেরে এবার নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি দেশের বিচার ব্যবস্থার শরণাপন্ন হলেন বেলেঘাটার বিধায়ক (মমতাপন্থী তৃণমূল) কুণাল ঘোষ। আজ, সোমবার সকালে চরম আতঙ্কের আবহেই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন। বিধায়কের আইনজীবী আজ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে উপস্থিত হয়ে মামলা দায়ের করার বিশেষ অনুমতি চান এবং বিষয়টি আদালতের জরুরি নজরে আনেন। আদালতে বিধায়কের আইনি পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর যেভাবে খোদ কলকাতার বুকে পর পর দু’দিন পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়েছে, তাতে তিনি বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন।
বিধায়কের জীবনহানির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তাঁর আইনজীবী আজ বা কালকের মধ্যেই এই মামলার অত্যন্ত দ্রুত ও জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন। বিচারপতি কুণাল ঘোষকে মামলা দায়ের করার ছাড়পত্র দিলেও, জরুরি শুনানির আর্জিটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আদালতে এই ধরনের মামলার দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। ফলে কোনো বিশেষ ভিআইপি ট্রিটমেন্ট বা অগ্রাধিকার না দিয়ে, আদালতের নির্দিষ্ট নিয়ম এবং তালিকা (List) মেনেই ক্রমানুসারে এই মামলার শুনানি হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। কুণাল ঘোষের আবেদন ছিল, হয় পুলিশ তাঁকে অবিলম্বে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিক, নয়তো এই জোড়া হামলার ঘটনায় প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিক আদালত।
বেলেঘাটার বিধায়কের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে রাজনৈতিক কারণে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিতেই এই খুনের চক্রান্ত। হুগলির শ্রীরামপুরে দলীয় জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ার সাখেরবাজারে কুণাল ঘোষের গাড়ি আটকে রড ও পাথর দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং ডিম ছোড়া হয়।শ্রীরামপুরের রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বেলেঘাটার ফুলবাগান (নারকেলডাঙা মেইন রোড) এলাকায় ফের তাঁর ওপর আক্রমণ হয়। অভিযোগ, ১৫-২০টি মোটরবাইকে এসে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে হাতুড়ি দিয়ে কাচ ভেঙে দেয়, রিভলভার উঁচিয়ে তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে নামানোর চেষ্টা করে। নিরাপত্তারক্ষীরা তৎপর হয়ে অস্ত্র উঁচানোয় সে যাত্রায় কোনোমতে নারকেলডাঙা থানায় আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন তিনি। এই চরম আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং পর পর আক্রমণের জেরে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টে কড়া নাড়লেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
