Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

উড়ালপুলের বিপজ্জনক রঙে প্রাণসংশয়! “দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? কার টাকার শ্রাদ্ধ হলো?” নবান্নকে তুলোধোনা কুণাল ঘোষের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরসুমে শহর সাজানোর নামে কলকাতার উড়ালপুলের বুকে করা ‘রংধনু’ রঙই কি ডেকে আনল মরণফাঁদ? চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে সামান্য বৃষ্টির পরেই রঙের পিচ্ছিল প্রলেপের ওপর চাকা পিছলে একের পর এক বাইক চালকের মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ঘটনা এবার রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল অগ্নিকুণ্ডের জন্ম দিল। তীব্র জনরোষ ও বিতর্কের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি গড়িয়াহাট ও চিংড়িঘাটা উড়ালপুল থেকে ক্রেন ও পেইন্ট রিমুভার গাড়ি দিয়ে সেই রঙিন প্রলেপ মুছে ফেলার কাজ শুরু করেছে বর্তমান বিজেপি সরকার। আর এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করেই নবান্নকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন মমতা-তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। আজ, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকালে, গড়িয়াহাট উড়ালপুল থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পিচ রাস্তার রং তুলে ফেলার একটি ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল বিধায়ক।

উড়ালপুল থেকে রাতারাতি রং মুছে ফেলার প্রশাসনিক ব্যর্থতার ভিডিও শেয়ার করে রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় বিঁধেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর ফেসবুক ও এক্স (প্রাক্তন টুইটার) পোস্টের সেই বিস্ফোরক বক্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নবান্নকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি লিখেছেন: “অবৈজ্ঞানিক বিপজ্জনক রং যদি তুলতেই হয়, ছেলেমানুষি করে লাগালেন কেন? দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? কাদের টাকার শ্রাদ্ধ হল? চিংড়িহাটার দুর্ঘটনার পর গড়িয়াহাটের রং তোলার ছবি থেকে যাক।” কুণাল ঘোষের এই সরাসরি আক্রমণের পর স্বাভাবিকভাবেই বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। আমজনতার ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা এভাবে কোনো বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ ছাড়া কেন অপচয় করা হলো এবং পূজার মুখে চালকদের জীবনকে কেন ঝুঁকির মুখে ফেলা হলো, তা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা।

শারদোৎসব উপলক্ষে মহানগরের প্রধান প্রধান উড়ালপুল ও সংযোগকারী রাস্তাগুলির পিচের ওপর রঙিন নকশা করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল বিজেপি সরকার ও কেএমডিএ (KMDA)। কিন্তু গত বুধবার হালকা বৃষ্টির পরেই চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে ঘটে চরম বিপত্তি। পিচ্ছিল রাসায়নিক রঙের ওপর ব্রেক কষতেই একের পর এক মোটরসাইকেল আরোহী ভয়ঙ্করভাবে ছিটকে পড়তে থাকেন, যার ড্যাশ ক্যাম ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। হাইওয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, পিচ রাস্তার ওপর এই ধরনের গ্লসি রঙের প্রলেপ টায়ারের স্বাভাবিক ঘর্ষণ ক্ষমতা (Traction) কমিয়ে দেয়, যা বৃষ্টি হলে তেলতেলে মরণফাঁদে পরিণত হয়। গড়িয়াহাট উড়ালপুলেও রং ফুলে উঠে চলটা উঠতে শুরু করায় বড় দুর্ঘটনার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কুণাল ঘোষের “অবৈজ্ঞানিক ও বিপজ্জনক” রঙের দাবি খারিজ করে তিনি বলেন, “রাস্তায় কোনো সাধারণ বা তেল রং ব্যবহার করা হয়নি, এটি সম্পূর্ণ ‘অ্যান্টি-স্কিড’ (Anti-skid) কালার ছিল। উৎসবের জন্যই এই সাময়িক সাজসজ্জা করা হয়েছিল। তবে তা সত্ত্বেও কেন চাকা স্কিড করল, তা কেএমডিএ ও পুলিশের ইঞ্জিনিয়ারদের খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।” উৎসবে শহরকে সাজানোর নামে এই প্রশাসনিক অপেশাদারিত্ব এবং কুণাল ঘোষের এই সরাসরি আক্রমণের ফলে উড়ালপুলের রং বিতর্ক বর্তমান বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তিতে যে বড় ধাক্কা দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version