Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ঋতব্রত শিবিরে চরম নাটকীয়তা! সটান ঢুকে মাইক হাতে মমতার জয়ধ্বনি কুণাল ঘোষের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-স্বাধীনতা দিবসের পুণ্যলগ্নে কলকাতার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। উৎসবের আমেজে দলীয় বিভাজন ভুলে বিবাদমান গোষ্ঠীর কার্যালয়ে সটান ঢুকে পড়লেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবিরের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে তাঁর এই আচমকা উপস্থিতি সেখানে উপস্থিত নেতা ও কর্মীদের কার্যত হতভম্ভ ও বাকরুদ্ধ করে দেয়।

আজ, ১৫ আগস্ট ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকালে, বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রথমে কলকাতার তপসিয়ায় অবস্থিত তৃণমূলের পুরোনো ভবনে স্বাধীনতা দিবসের দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেখান থেকে ইএম বাইপাস হয়ে ফেরার পথে, বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর কার্যালয়ের সামনে আচমকাই গাড়ি থামান তিনি। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা স্বাধীনতা দিবস পালন করছিলেন। কুণাল ঘোষকে আচমকা কার্যালয়ে ঢুকতে দেখে উদ্যোক্তারা কিছুটা থতমত খেয়ে গেলেও রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখেন। তাঁকে মঞ্চের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শহিদ বেদীতে মাল্যদান করার অনুরোধ জানানো হয়। কুণাল ঘোষ বীর শহিদদের উদ্দেশ্যে মাল্যদান করার পর, উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে তাঁকে মাইক হাতে কিছু বলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।

মাইক হাতে নিয়েই মূল চমকটি দেন কুণাল ঘোষ। ঋতব্রত শিবিরের মঞ্চে দাঁড়িয়েই তিনি সটান দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে জয়ধ্বনি দেন। পরবর্তীকালে এই বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “মমতাদির নেতৃত্বে তৃণমূল তৈরি হয়েছে। সেই মমতাদিকে ওঁরা মুছে দিতে চান। ওঁদের ডেরায় দাঁড়িয়ে আমি বাঘের বাচ্চার মতো মমতাদির নামটা বলে এসেছি।”

স্বাধীনতা দিবসের এই মঞ্চ থেকে কুণাল ঘোষ দিল্লির বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। এর পাশাপাশি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রক্ষিতে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের গ্রেফতারির জোরালো দাবি তোলেন তিনি। কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান, অনন্ত মহারাজের সাংসদ পদ খারিজ করতে হবে এবং তাঁকে অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

কুণাল ঘোষের এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে, তখন ঋতব্রত শিবিরের বর্ষীয়ান নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। উনি (কুণাল ঘোষ) এখান দিয়ে যাচ্ছিলেন, এসেছেন, শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, এর মধ্যে অসুবিধার কী আছে?” তবে কারণ যাই হোক না কেন, স্বাধীনতা দিবসের সকালে কুণাল ঘোষের এই পদক্ষেপ যে বিবাদমান শিবিরের অন্দরে বড়সড় ঝাঁকুনি দিয়ে গেল, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।

Exit mobile version