প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শারদোৎসবের মুখে এক চরম ও নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড ফেলে দিলেন রাজ্যের নতুন সরকারের আইন প্রতিমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আলিপুরদুয়ার জেলা আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি বামেদের দুর্গাপুজোর বুক স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মন্ত্রীর এই চরম বার্তা ঘিরে উৎসবের আগেই গোটা রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার দলীয় আইনজীবী ও সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী। এরপর নবনির্মিত আদালত ভবন পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বামেদের স্টল নিয়ে এই নজিরবিহীন কড়া মন্তব্য করেন।
আইন প্রতিমন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস সাফ জানান, “দুর্গাপুজোয় কমিউনিস্টদের স্টলে যদি হিন্দুধর্ম, সনাতন ধর্ম এবং ভারত বিরোধী বা দেশদ্রোহী কিছু লেখা বা জিনিসপত্র থাকে, তবে সেই স্টল ভেঙে দেওয়া হবে। এমনকি স্টলে যদি ‘দুর্গাপুজো’ কথাটি না লিখে কেবল ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকে, তবুও তা ভেঙে দেওয়া হবে। দরকারে আমি নিজেই গিয়ে ওই বামেদের স্টল ভেঙে দিয়ে আসব।” কমিউনিস্টদের তীব্র আক্রমণ করে মন্ত্রী আরও বলেন, “যাঁদের কাছে ধর্মের কোনও মানে নেই, যাঁরা ধর্ম মানে না এবং ধর্মকে আফিম মনে করে, তারা কেন পুজোয় স্টল দেবে? তাদের জন্য তো পুজোই নয়!”
আইনমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক কিশোর দাস মন্ত্রীর বক্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করে জানিয়েছেন, “আমাদের স্টলে আমরা কী বই রাখব বা রাখব না, তা বাইরের কেউ ঠিক করে দেওয়ার এক্তিয়ার রাখে না। বিজেপি স্রেফ ধর্মীয় মেরুকরণ করে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে। গনতান্ত্রিক দেশে শারদোৎসবে আমরা প্রতি বছরের মতো এবারও স্টল দেব। বিজেপি যদি সেই স্টল ভাঙতে আসে, তবে সাধারণ মানুষই রাজপথে নেমে তার যোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।” সব মিলিয়ে, পুজোয় বামেদের বইয়ের স্টলে ‘শারদোৎসব’ বনাম ‘দুর্গাপুজো’ লেখার এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই এবার কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।
