প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের রাজকোষ খালি করে কীভাবে সাধারণ মানুষের করের টাকা লুঠ করা হয়েছে, তার এক বিস্ফোরক ও নজিরবিহীন খতিয়ান বিধানসভার ফ্লোরে পেশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের জবাবে নিজের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে সাবেক তৃণমূল জমানার সামাজিক প্রকল্পগুলির ভেতরে চলা এক বিরাট দুর্নীতি ও জালিয়াতির পর্দাফাঁস করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী তথ্য দিয়ে দাবি করেন, রাজ্যের অন্যতম চর্চিত প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘বিধবা ভাতা’র টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে হাজার হাজার পুরুষদের! শুধু তাই নয়, প্রায় ২৭ লক্ষ উপভোক্তার কোনো অস্তিত্বই নেই ভোটার তালিকায়!
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় সরকারি নথি ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, সাবেক জমানায় দাবি করা হতো রাজ্যে ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পান। কিন্তু নতুন সরকার আসার পর স্ক্রুটিনি এবং তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠার মতো অবস্থা হয়েছে আধিকারিকদের। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ২ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম রাজ্যের ভোটার লিস্টেই নেই! রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিপুল পরিমাণ ভুয়া নাম ব্যবহার করে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির এখানেই শেষ নয়। শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং অসহায় মহিলাদের জন্য বরাদ্দ ‘বিধবা ভাতা’ প্রকল্পের টাকা পুরুষদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর মতো নজিরবিহীন জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বাবু সুনির্দিষ্ট এলাকার নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, জঙ্গিপুর এবং কৃষ্ণনগর সহ রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে হাজার হাজার পুরুষ উপভোক্তাদের এই দুই প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কীভাবে দলীয় ক্যাডারদের পকেট ভরাতে মহিলাদের জন্য বরাদ্দ টাকা পুরুষদের দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, গরিব মানুষের হকের টাকা নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না বর্তমান বিজেপি সরকার। এই ব্যাপক জালিয়াতির পেছনে সাবেক জমানার কোন কোন আধিকারিক ও নেতা যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “জনগণের দরবারে তৃণমূলের এই সীমাহীন দুর্নীতির পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছিল বলেই বাংলার মানুষ এই শক্তিকে ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলেছে।” সাবেক জমানার কোনো চোর বা দুর্নীতিগ্রস্ত পার পাবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
