প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং তাদের সংরক্ষিত ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সাময়িকভাবে ফ্রিজ (স্থগিত) করার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ ভাঙন ও প্রতীক হারানোর ঘটনাকে বাম-কংগ্রেস জোটের পুনরুত্থানের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গ্রামীণ ও ধর্মনিরপেক্ষ ভোটব্যাঙ্ক যেখানে তিন দশক ধরে ঘাসফুলের দিকে ঝুঁকেছিল, চেনা প্রতীক উধাও হতেই সেই ভোটের দখল নিতে এবার জোরদার ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে আলিমুদ্দিন ও বিধান ভবন।
কমিশনের এই অন্তর্বর্তী আদেশের পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের মতে, আসন্ন ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ঠিক মুখে একটি প্রধান বিরোধী দলের প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক এবং এর ফলে নির্বাচনী গণতান্ত্রিক পরিবেশ দুর্বল হতে পারে।বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের একটি ঐতিহ্যবাহী জমি রয়েছে। এই সংখ্যালঘু প্রধান এলাকায় তৃণমূলের প্রথাগত ভোটব্যাঙ্ক এবার প্রতীক না থাকার কারণে বিভ্রান্ত হতে পারে, যা কংগ্রেসকে বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন প্রদেশ কংগ্রেসের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক।অন্যদিকে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিআইএম (CPIM) এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রবীণ বাম নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন, তবে রাজনৈতিক ময়দানে তাঁরা বিন্দুমাত্র জমি ছাড়বেন না।
বামেদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১১ এবং ২০১৬ সালে বামেদের যে বিশাল ভোটব্যাঙ্ক দলবদল করে তৃণমূলের দিকে গিয়েছিল, তৃণমূলের এই চরম সাংগঠনিক বিপর্যয়ের পর সেই ভোটারদের বড় অংশ আবার বামেদের দিকে ফিরে আসতে পারে। ঘাসফুল প্রতীক ইভিএম থেকে গায়েব হয়ে যাওয়ার ফলে নিচুতলার লক্ষাধিক দলীয় কর্মী যে চরম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন, তাঁদের নিজেদের দিকে টেনে আনাই এখন বামেদের মূল লক্ষ্য। আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে বিজেপি যেখানে নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরে শাখারভ সরকার-কে দাঁড় করিয়েছে, সেখানে বাম-কংগ্রেস জোট যৌথভাবে প্রার্থী দিয়ে বিকল্প বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে।তৃণমূলের মূল চালিকাশক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী এবং বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী—উভয় পক্ষই আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ১১টার ডেডলাইনের মধ্যে তাদের নতুন নাম ও প্রতীক জমা দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ে তৃণমূলের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হতে বাধ্য। এই পরিস্থিতিতে প্রথাগত বিজেপি-বিরোধী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভোটব্যাঙ্ক যাতে সম্পূর্ণভাবে বাম-কংগ্রেস জোটের ঝুলিতে আসে, তার জন্য নিচুতলায় জোরদার প্রচার শুরু করেছে জোটের প্রার্থীরা। তিন দশকের ‘ব্র্যান্ড তৃণমূল’-এর এই আকস্মিক সংকটের সুবিধা নিয়ে বাম-কংগ্রেস জোট কি আবার রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারবে, নাকি বিরোধী ভোট পুরোপুরি বিভাজিত হয়ে বিজেপির হাত শক্ত করবে, তার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ ভোট গণনার দিন।
