প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে আজ এক ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘সীমানা পুনর্বিন্যাস (Delimitation) বিল ২০২৬’ আজ লোকসভায় চূড়ান্ত ভোটাভুটি বা পাসের জন্য পেশ করা হয়েছে। এই বিলটি পাস হলে ভারতের লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে একলাফে বেড়ে ৮৫০ হওয়ার আইনি পথ প্রশস্ত হবে।
২০২৬ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং প্রশাসনিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে লোকসভা ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন সংসদ ভবনের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ এবং রাজ্যসভার আসন সংখ্যা ৩৮৪ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ২০২৩ সালে পাস হওয়া নারী সংরক্ষণ বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) কার্যকর করার জন্য এই সীমানা পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি। নতুন আসন বিন্যাস হলে তবেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করা সহজ হবে। আজ সকালেই কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আসন বৃদ্ধি নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার অত্যন্ত আশাবাদী হলেও, কংগ্রেস, ডিএমকে এবং তৃণমূলের মত বিরোধী দলগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করছে। বিরোধীদের প্রধান আশঙ্কা হলো, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ার কারণে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর তুলনায় সংসদীয় প্রতিনিধিত্বে পিছিয়ে পড়তে পারে। তামিলনাড়ু ও কেরলের মতো রাজ্যগুলো আগে থেকেই এই বিলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর আগেই আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে কোনো রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং প্রতিটি রাজ্যেরই বর্তমানের তুলনায় আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই নতুন মানচিত্র কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র।
আজ বিকেলে সংসদ ভবনে এই বিলের ওপর কয়েক ঘণ্টা বিতর্ক হওয়ার পর ভোটাভুটি হওয়ার কথা। বিলটি পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে কিনা, তা নিয়ে আইনি মহলে চর্চা চলছে। যদি আজ এই বিল পাস হয়, তবে স্বাধীনতার পর ভারতীয় আইনসভার এটিই হবে সবথেকে বড় পরিকাঠামোগত পরিবর্তন।
