প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতিতে এবার এক বড়সড় তোলপাড় শুরু হতে চলেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার সরাসরি বার্তা দিলেন। শনিবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার জনসভা থেকে মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের তথাকথিত ‘ভয়ের রাজনীতি’ এবং ‘মিথ্যার কারবার’ এবার শেষ হতে চলেছে। তৃণমূল মানুষের মনে ভয় ধরাচ্ছে যে বিজেপি এলে প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু মোদী পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন— “বিজেপি প্রকল্প বন্ধ করবে না, বিজেপি ওদের দুর্নীতির দোকান বন্ধ করবে! লুট বন্ধ করবে।”
বিগত কয়েক দিন ধরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে যে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। এই মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কাটোয়া থেকে গর্জে উঠে মোদী বলেন, তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়েছে বলেই এখন একের পর এক মিথ্যা বলছে। তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানান, বিজেপি সাধারণ মানুষের সুবিধা কেড়ে নিতে নয়, বরং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্টে বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রথম মন্ত্রিসভাতেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড চালু করা হবে যাতে বাংলার মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা পান—যা বর্তমান সরকার আটকে রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান যে তৃণমূলের গত ১৫ বছরের শাসনকালে বাংলায় কেবল ‘লুট’ আর ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চলেছে। তিনি ঘোষণা করেছেন যে বিজেপি সরকার আসার পরেই তৃণমূলের দুর্নীতির একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) জনসমক্ষে আনা হবে। মোদীর কথায়, “লুটের টাকা যারা ঘরে ভরেছে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। দুর্নীতির দায়ে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো হবে।” এমনকি অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রী এদিন কেবল বক্তৃতা দেননি, বরং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল স্থির করে দিয়েছেন। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি—বাংলার বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে কাটোয়ার বুক থেকে মোদীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিজেপি এবার বাংলায় বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
মোদী এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বিজেপি এলে বাংলায় কর্মসংস্থান হবে, শিল্প ফিরবে এবং সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা তৃণমূলের ক্যাডারদের পকেটে নয়, বরং সরাসরি মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে। তৃণমূলের ‘নির্মম শাসন’ থেকে মুক্তি দিয়ে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে স্বপ্ন বিজেপি দেখাচ্ছে, মোদীর এদিনের ঘোষণা তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
