Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

হাইকোর্টে চরম ধাক্কার পরেই তোলপাড়! “সব মামলা তোলো, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সাথে সেটিং করো!”—অভিষেককে নিয়ে মদন মিত্রের বিস্ফোরক দাবি!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কয়লা পাচার এবং নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলার তদন্তের মাঝেই চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে গতকাল, ৫ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার), কলকাতা হাইকোর্টে চরম ধাক্কা খেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ তাঁর বিদেশ যাওয়ার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। আর এই আইনি ধাক্কার আবহেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক বোমা ফাটালেন কামারহাটির বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান নেতা মদন মিত্র। তাঁর এই দাবিতে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে বাঁচতে কি শেষ পর্যন্ত রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে ‘সেটিং’ করতেও মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন অভিষেক?

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র দাবি করেছেন, কিছুদিন আগে দলের অন্দরে একটি গোপন আলোচনায় তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। মদন মিত্র বলেন, “ওকে আমরা পুরো বুঝিয়ে বললাম যে তুই ছাড়লে, তোর উপর থেকে রাগটা বেরিয়ে যাবে।” মদন মিত্রের দাবি অনুযায়ী, তাঁদের এই কথা শোনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে এবং বিদেশ যাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় এক গোপন সমঝোতা বা আপসের প্রস্তাব দেন। মদন মিত্রের ভাষায়, সবটা শুনে অভিষেক বলেন: “তুমি ওদের বলো, আমার বিদেশ যাত্রার পারমিশনটা দিয়ে দিতে। তারপরে বলতে লাগল পেন্ডিং মামলাগুলো তুলে দিক। আমার জামিনটা বিরোধিতা করছে, ওটা ছেড়ে দিক।” এখানেই শেষ নয়, মদন মিত্র আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, এই বিষয়ে সরকারের শীর্ষ স্তরে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য অভিষেক নিজেই নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও এই সমঝোতা নিয়ে কথা বলার জন্য অভিষেক বলেছিলেন বলে দাবি মদন মিত্রের। মদন মিত্রের ভাষায়, “অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেছিলেন কথা বলে জানাতে। পরের দিন শুভেনদুর সঙ্গে কথা বলেও জানাতে বলেছিল।”

মদন মিত্রের এই বিস্ফোরক দাবির পর রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তাহলে কি আদালতের কড়া অবস্থান এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) ও সিবিআই (CBI)-এর হাত থেকে রেহাই পেতে শেষ পর্যন্ত রাজ্যের নতুন বিজেপি প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে গোপন আঁতাত করতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড?

অন্যদিকে, হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে রাজ্যে একাধিক দুর্নীতি মামলা বিচারাধীন থাকায় এবং চিকিৎসার উপযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা (যেমন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতাল) এ রাজ্যেই থাকায় অভিষেককে কোনোভাবেই দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না। আদালতের এই কড়া রায়ের পর এবং মদন মিত্রের এই সেটিং সংক্রান্ত ফাঁসের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে চরম রাজনৈতিক ও আইনি ব্যাকফুটে, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version