প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় মোড় তৈরি হলো। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন ‘খাম’ প্রতীককে হাতিয়ার করে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে কার্যত ধুয়ে দিলেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের (DTC) শীর্ষ নেতা মদন মিত্র। মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মদন মিত্র একের পর এক এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে।
আইএসএফ-এর থেকে কেড়ে নেওয়া ‘খাম’ প্রতীকটি নির্বাচন কমিশন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়ার পর থেকেই তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। সেই প্রতীক প্রসঙ্গে মদন মিত্র আজ সরাসরি তৃণমূলের আর্থিক লেনদেনকে নিশানা করে বলেন, “খাম আমাদের প্রতীক চিহ্ন, খামে ১ লক্ষ, ২ লক্ষ হাজার কোটি টাকা ধরে না!” তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্য জুড়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করে মদন আরও যোগ করেন, “২ নম্বর যিনি ছিলেন, তিনি লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে চলে গেছেন!” আগামী উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনটি যে তাঁদের পাখির চোখ, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মদন মিত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে তাঁর দিকেই ফিরিয়ে দিয়ে মদন বলেন:”নন্দীগ্রামের মনের মধ্যে খাম, মাঠে খেলতে নেমেছি, উল্টোদিকে প্লেয়ার নেই।” তৃণমূল নেত্রীর বয়স তুলে ধরে অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এই বয়সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো আর খেলতে পারবেন না!”
নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকেও সমপরিমাণ গুরুত্ব দিচ্ছে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস। আজ দলের হাইপ্রোফাইল বৈঠকের পর মদন মিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, রেজিনগরে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন আখরুজ্জামান এবং অপূর্ব সরকার। এই দুই হেভিওয়েট নেতার কাঁধে ভর করেই মুর্শিদাবাদের মাটিতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াইয়ে নামছে ঋতব্রত-মদন শিবির।উপনির্বাচনের ঠিক আগে মদন মিত্রের এই ধারালো এবং চাঁছাছোলা আক্রমণ প্রতিপক্ষ শিবিরকে কতটা কোণঠাসা করতে পারে, আর ব্যালট বক্সে ‘খাম’ কতটা ম্যাজিক দেখায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
