Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মালদার নদীভাঙন রুখতে শুভেন্দুর ৩ দফা যুদ্ধকালীন মাস্টারস্ট্রোক! রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে এবার সরকার-স্তুতি!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার দীর্ঘদিনের অভিশাপ গঙ্গার মারাত্মক নদীভাঙন রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে রাজ্য সরকার। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং গঙ্গা ও ফুলহার নদীর সংযোগের মতো মারাত্মক ভৌগোলিক বিপর্যয় আটকাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেওয়া দূরদর্শী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মালদার রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বর্ষীয়ান তৃণমূল (AITC) বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। নিজের নির্বাচনী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা ও দুর্গত মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা মাথায় রেখে, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনের যুদ্ধকালীন তৎপরতাকে প্রকাশ্য বিবৃতিতে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রবীণ এই বিধায়ক। মালদাবাসীকে নদীভাঙনের হাত থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে এবং ফরাক্কা ব্যারেজের অকেজো হয়ে পড়া রুখতে রাজ্য সরকার বিশেষজ্ঞ আইআইটি (IIT Roorkee, IIT Kanpur)-র পরামর্শে প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকার একগুচ্ছ মহা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।

ঝাড়খণ্ডের রাজমহল ও সাকরিগলির কাছাকাছি গঙ্গার প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পলি জমে যাওয়া পুরনো খাতে ড্রেজিং (নদীগর্ভ খনন) করে নদীর মূল স্রোতটিকে আগের গতিপথে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এর ফলে মালদার দিকে জলের চাপ ও ভাঙনের তীব্রতা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যাবে। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সীমান্ত সংলগ্ন গঙ্গার বিভিন্ন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত অংশে মোট ৯টি শক্তিশালী ‘স্পার’ (নদীবাঁধের প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো) নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে ৫টি বাংলায় এবং ৪টি বিহারে নির্মিত হবে। মালদার সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ ভুতনি দ্বীপাঞ্চল এবং রতুয়া সংলগ্ন এলাকাকে স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত করতে আধুনিক ও বিশ্বমানের জিওসিন্থেটিক নদীবাঁধ নির্মাণের চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে, যা মাটির প্রবল ক্ষয় রোধে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দেবে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড সরকারের কাছ থেকে রাজমহল এলাকায় ড্রেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক সম্মতি বা নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) পাওয়ার প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে চলেছে নবান্ন। এই স্থায়ী সমাধানের স্বার্থে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সাথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চূড়ান্ত হয়েছে এবং কেন্দ্রের তরফেও পূর্ণ আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতার সবুজ সংকেত মিলেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল নিজে মালদার ভাঙন কবলিত রতুয়া ও ভুতনি এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসেছেন। প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য সরকার-স্তুতি এবং প্রশাসনের এই ৩ দফার মাস্টারস্ট্রোক মালদার নদী তীরবর্তী অসহায় দুর্গত মানুষের মনে নতুন করে বাঁচার আশার আলো সঞ্চার করেছে।

Exit mobile version