প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বীরভূমে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মালদায় মিলল যকের ধন! ওল্ড মালদা থানার অন্তর্গত মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি অভিজাত আবাসন থেকে উদ্ধার হলো থরে থরে সাজানো কোটি কোটি টাকা। রাজ্য পুলিশের বিশেষ অভিযানের পর দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা কাউন্টিং শেষে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা জেলায় তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া টাকার এই পাহাড়ের সাথে সরাসরি যোগ রয়েছে বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার অনুগামীর। রাজ্য জুড়ে চলা বিভিন্ন দুর্নীতি ও পাচার চক্রের শিকড় কত গভীরে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের নেপথ্যে রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক পাচার চক্র। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ পাচার মামলার তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই মালদা জেলা পুলিশকে সাথে নিয়ে মঙ্গলবাড়ির ওই আবাসনে হানা দেয় যৌথ দল। সেখানে এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটের আলমারি খুলতেই চোখ চড়কগাছ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। একের পর এক ৫০০ এবং ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল ঠাসা ছিল আলমারির ভেতরে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা সাধারণ মানুষের পক্ষে গোনা অসম্ভব হওয়ায় তড়িঘড়ি নোট গোনার মেশিন আনা হয়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার টানটান তল্লাশি ও গোনার পর মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই দুর্নীতি, সিন্ডিকেট এবং পাচার চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। মালদার এই মেগা রিকভারি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকার উৎস কী, তা জানতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালানো হচ্ছে। বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, বিগত তৃণমূল জমানার প্রশ্রয়েই মালদা এবং সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের বেআইনি টাকার পাহাড় ও পাচার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই এই ফ্ল্যাটের মালিকের সাথে তৃণমূলের কোন কোন নেতার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, সেই সংক্রান্ত কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) এবং আর্থিক লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখছে। এর সাথে কোনো আন্তর্জাতিক হাওয়ালা চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
