প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মহাসভা থেকে এবার বিরোধী শিবির এবং দলের বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের প্রকাশ্য জনসভা থেকে তিনি এক বড়সড় রাজনৈতিক যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। সব বাধা ও ষড়যন্ত্রকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এবার তিনি সরাসরি রাস্তায় নামছেন।
এদিন মঞ্চ থেকে সরাসরি রাজ্যজুড়ে বড় আন্দোলনের ডাক দিয়ে জেলা সফরের ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ স্বরে বলেন, “এর পর আমি জেলায় জেলায় বেরোব, আটকানোর ক্ষমতা কত আছে দেখতে চাই।” এখানেই শেষ নয়, তিনি অভিযোগ তোলেন যে এদিন সকালেও তাঁর বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বিজেপি কর্মীরা তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে কোনো শক্তিই তাঁকে মানুষের কাছে পৌঁছানো থেকে আটকাতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
দলের বিদ্রোহী ও দলত্যাগীদের প্রতি এদিন বিন্দুমাত্র রেয়াত করেননি তৃণমূল নেত্রী। নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “সব চোরগুলো চলে গিয়েছে, বেঁচে গিয়েছি। ধনে-মানে-প্রাণে ভালো থাকুন, আপনাদের আর দলে নেওয়া হবে না।” বিদ্রোহীদের ‘বিজেপির পাশবালিশ’ না হয়ে সরাসরি পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়ে লড়াই করার খোলা চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন তিনি।
আজকের সভামঞ্চ পণ্ড করতে বিজেপির তরফ থেকে বিদ্যুতের তার কেটে দেওয়া এবং মঞ্চ ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মমতা। বিজেপিকে ‘তারকাটা পার্টি’ বলে উল্লেখ করে তিনি বাংলায় বিজেপির আগ্রাসন রুখতে কংগ্রেস এবং বামেদের সাথে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের স্বার্থে একজোট হয়ে লড়াই করার বার্তা দেন। আজ থেকেই তাঁদের এই নতুন রাজনৈতিক লড়াই শুরু হলো এবং আগামী দিনে এই আন্দোলন প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
