Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মহালয়ার দিন ‘জাগো বাংলা’র অনুষ্ঠান বাতিলের অভিযোগে তোলপাড়! মমতাকে পাল্টা ‘অতীত আয়না’ দেখাল বিরোধীরা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মহালয়ার পুণ্যলগ্নে তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’-র শারদীয়া উৎসব সংখ্যা প্রকাশ অনুষ্ঠান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হলো। আজ (বৃহস্পতিবার) দিল্লি সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে কালীঘাটের বাসভবন থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে কলকাতার নজরুল মঞ্চে তাদের এই দলীয় মুখপত্রের উৎসব সংখ্যা প্রকাশের অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্তকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ সামনে আসতেই তাঁকে তীব্র আক্রমণ ও পাল্টা কটাক্ষে ধুয়ে দিয়েছে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। তাঁদের সাফ কথা, “মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন যিনি রাজ্যে একনায়কতন্ত্র চালিয়ে বিরোধীদের প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পদে পদে বাধা দিয়েছেন, আজ তাঁর মুখে গণতন্ত্র ও অধিকারের কথা মানায় না।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বিগত তৃণমূল সরকারের জমানায় কীভাবে সরকারি হল বা অডিটোরিয়াম বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলির কণ্ঠরোধ করা হতো। বিরোধীদের তোলা একাধিক পুরনো প্রসঙ্গ আজ ফের রাজ্য রাজনীতিতে ভেসে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতের একটি পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান কলকাতার একটি সরকারি অডিটোরিয়ামে শেষ মুহূর্তে বাতিল করে দিয়েছিল তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তখন পরিকাঠামোগত সংস্কারের বাহানা দেওয়া হয়েছিল। একইভাবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যোগগুরু রামদেবের যোগ শিবিরের জন্য দেওয়া অনুমতিও বাতিল করেছিল তৎকালীন তৃণমূল প্রশাসন। বিগত দিনে বিজেপি কিংবা বামেদের একাধিক রাজনৈতিক সমাবেশ, রথযাত্রা বা জনসভার ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি না দেওয়ার ভুরিভুরি নজির রয়েছে, যা নিয়ে একাধিকবার আদালত পর্যন্ত জল গড়িয়েছিল।

শাসক শিবিরের একাংশের দাবি, নজরুল মঞ্চ বা সরকারি সম্পত্তি কোনো নির্দিষ্ট দলের একচেটিয়া অধিকার নয়। বুকিং প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি বা টেকনিক্যাল ত্রুটি থাকলে বা উৎসবের মরশুমে আইনশৃঙ্খলার কোনো বিষয় জড়িয়ে থাকলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এখানে খামোখা দিল্লির বিমান ধরার আগে ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার কোনো প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত দীর্ঘ শাসনকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল যেভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করার নজির তৈরি করেছিল, আজ সরকার পরিবর্তনের পর ক্ষমতার হাতবদল হতেই সেই ‘অতীতের ছায়া’ তাঁদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। নিজের দলের মুখপত্রের অনুষ্ঠান নিয়ে নজিরবিহীন এই ক্ষোভ প্রকাশ আসলে ক্ষমতার হাতছাড়া হওয়ার রাজনৈতিক হতাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

Exit mobile version