Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“জানলা খোলা থাকলে আজ মারাই যেতাম!” হালিশহরে আমজনতার ক্ষোভ দেখেই কি এখন ‘খুনের চক্রান্ত’ খুঁজছেন মমতা?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-হালিশহরের মাটিতে সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব এবং স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের মুখোমুখি হয়ে এবার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলতে ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে তাঁর গাড়ি ঘিরে আমজনতার যে তুমুল ক্ষোভ আছড়ে পড়েছিল, তা থেকে নজর ঘোরাতে এবার এক বিস্ফোরক দাবি করে বসেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সামনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, “গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে আজ আমার মাথা ফেটে যেত, আমরা সবাই আজ মারাই যেতাম!” শুধু তাই নয়, এই চরম অপমানের পর সরাসরি রাজ্য পুলিশকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ আগে থেকে খবর পাওয়া সত্ত্বেও তাঁকে নাকি কোনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়নি, বরং তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেছে! তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুলিশ এখন শুধু বিজেপিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে, আর আমাদের ওপর বহিরাগতদের দিয়ে হামলা করাচ্ছে।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে দোলা সেন—তৃণমূলের তাবড় নেতারাও এখন এই ঘটনাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে ‘খুনের চক্রান্ত’ বলে দেগে দেওয়ার খেলায় মেতে উঠেছেন।

এখন প্রশ্ন হলো, কোটি কোটি টাকার সীমাহীন দুর্নীতি আর বছরের পর বছর ধরে চলা অপশাসনের পর ত্যক্ত-বিরক্ত আমজনতা যখন সশরীরে চুরির জবাব চাইতে আসে, তখন তাকে ‘খুনের চক্রান্ত’ বলে চালিয়ে দেওয়াটা কি রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা নয়? পুলিশ বিজেপিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে বলে যে কান্না কাঁদছেন তৃণমূল নেতারা, তাঁদের মনে রাখা উচিত—পুলিশ চোরের দায় নেওয়ার জন্য বা চোরকে আড়াল করার জন্য বসে নেই। এক ব্যক্তির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সস্তা রাজনীতি করতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে যখন দেখতে পেলেন সাধারণ মানুষের হাতে কোনও দলের ঝান্ডা নেই, অথচ তাদের কণ্ঠে রয়েছে চরম ক্ষোভের “চোর চোর” স্লোগান—তখনই এই জনরোষকে ঢাকতে শুরু হলো ‘খুনের চক্রান্তের’ তত্ত্ব!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন জানলা বন্ধ ছিল বলে মাথা বেঁচেছে, কিন্তু বাংলার মানুষের চোখের সামনে থেকে যে দুর্নীতির পর্দাটা সরে গিয়েছে, সেই জানলাটা এবার বন্ধ করবেন কী দিয়ে? কোটি কোটি টাকা তছরুপের পর সাধারণ মানুষ যখন জুতো আর কাদা নিয়ে তাড়া করে, তখন সেই ‘গণরোষ’ থেকে পিঠ বাঁচাতে পুলিশের দিকে আঙুল তোলাটা অত্যন্ত হাস্যকর। আসলে, ক্ষমতার গদি চলে যাওয়ার পর আমজনতার এই তীব্র ধিক্কার জোড়াফুল শিবিরের নেতারা হজম করতে পারছেন না, আর সেই কারণেই সহানুভূতির সস্তা নাটক সাজিয়ে মান বাঁচানোর এই মরিয়া চেষ্টা চলছে! কিন্তু বাংলার জাগ্রত জনতা এই ছদ্মবেশী কান্না আর বিশ্বাস করে না!

Exit mobile version